
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আব্দুল মান্নান নামে এক প্রবাসীকে পিটিয়ে আহত করার পর পাঁচ দিন ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে ও শ্যালকের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার রাতে ভুক্তভোগীর ভাই সেলিম বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী পারভীন বেগম, দুই ছেলে পারভেজ ও মাহাজ এবং শ্যালক ফয়েজ। তাঁরা সবাই রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের উত্তর কেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরেন আব্দুল মান্নান। তাঁর অর্থসম্পদ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গত ১০ জুলাই রাতে অভিযুক্তরা আব্দুল মান্নানকে জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। এতে তাঁর মাথার বাম পাশে ও নাক ফেটে যায়।
আহত করার পর তাঁকে চিকিৎসা না দিয়ে উল্টো বাড়ির একটি কক্ষে পাঁচ দিন আটকে রাখা হয়। এ সময় ভুক্তভোগীর ভাই সেলিম খোঁজ নিতে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে জানান, মান্নান ঢাকায় আছেন। কিন্তু স্থানীয়দের কাছে গোপন খবর পেয়ে সেলিম ও স্থানীয়রা ওই বাড়ি থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় মান্নানকে উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা তাঁর মাথায় চারটি এবং নাকে তিনটি সেলাই দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর ভাই সেলিম বলেন, ‘আমার ভাই দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে যে সম্পদ অর্জন করেছেন, সেই লোভে স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালক মিলে তাঁকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল। তারা তাঁকে পিটিয়ে আহত করে ঘরের ভেতর বিনা চিকিৎসায় আটকে রেখেছিল। আমি না পৌঁছালে তারা হয়তো আমার ভাইকে মেরেই ফেলত। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘ভুক্তভোগীর ভাইয়ের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
