
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভাষাশহীদ ও ভাষাসংগ্রামীদের স্মৃতি ধরে রাখতে গড়ে ওঠা স্থাপনা ও স্মৃতিচিহ্নগুলো অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এলেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফুল দেওয়া হয়; বছরের বাকি সময় এসব স্মৃতিচিহ্নের খোঁজখবর থাকে না। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, ভাষাসৈনিকদের স্মৃতিরক্ষায় বছরজুড়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সময়ের সঙ্গে একুশের চেতনা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় পর্যায়ে সারাবছর এসব স্মৃতি সংরক্ষণে তেমন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ। বিশেষ করে কমলনগর উপজেলায় ভাষাসংগ্রামীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন অবহেলায় পড়ে থাকার কথা জানান বাসিন্দারা।
কমলনগর উপজেলার ভাষাসংগ্রামী কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহা ১৯৮৭ সালের ২৯ নভেম্বর ইন্তেকাল করেন। তাঁকে হাজিরহাটের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁর কবরে ফুল দেওয়া হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। কবরস্থানটির চারপাশে আগাছা জন্মানো ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব স্থানীয়দের দৃষ্টিতে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, ঝুমুর থেকে কমলনগর সড়ক নির্মাণে কমরেড তোয়াহার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। “এই সড়কটি তাঁর নামে নামকরণ করা হলে নতুন প্রজন্ম তাঁর অবদান জানতে পারত,” বলেন তিনি।
অন্য বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিন ও আবদুল করিম বলেন, “কমরেড তোয়াহা একজনের না, সবার। তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা। কিন্তু এখন সবাই যেন তাঁকে ভুলে গেছে।”
এদিকে একই উপজেলার ভাষাসংগ্রামী ও চারণ সাংবাদিক সানাউল্লাহ নূরীর স্মৃতিচিহ্নও অবহেলায় পড়ে থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৯২৮ সালে জন্ম নেওয়া এই সংগঠক ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ২০০১ সালের ২১ জুন তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে রাজধানীর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁর গ্রামের বাড়ির শেষ স্মৃতিচিহ্ন—একটি ঘর—সম্প্রতি আগুনে পুড়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় বসবাস করায় স্থাপনাটি অযত্নে পড়ে আছে। দ্রুত তাঁর স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত উজ জামান বলেন, কমরেড তোয়াহা রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের একজন সদস্য ছিলেন, যা ১৯৫২ সালে গঠিত হয়েছিল। “তাঁর সমাধি কমলনগরে থাকা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। ভাষাসংগ্রামীদের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে শিগগিরই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একুশের চেতনা শুধু একদিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বছরজুড়ে ভাষাসংগ্রামীদের স্মৃতি সংরক্ষণে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
