
নাজমুল হোসেন : লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক মুদি ব্যবসায়ীর দোকানে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আগুনে দোকানের সমস্ত মালামাল পুড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
আজ মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার চরসীতা কাজির মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. নোমান সিদ্দিক বাদী হয়ে মো. মোছলেহ উদ্দিনকে (৫৫) বিবাদী করে রামগতি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মোছলেহ উদ্দিন চরসীতা এলাকার মৃত গোলাম কুদ্দুসের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরসীতা এলাকার হাজী নুরুজ্জামানের ছেলে মো. নোমান সিদ্দিক কাজির মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশে দীর্ঘদিন ধরে মুদিদোকান চালিয়ে আসছিলেন। অভিযুক্ত মোছলেহ উদ্দিন ওই দোকান থেকে বিভিন্ন সময় বাকিতে মালামাল নিতেন, কিন্তু টাকা পরিশোধ করতেন না। দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা পরিশোধে কালক্ষেপণ করায় তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে ঘটনার তিন দিন আগে স্থানীয় একটি বৈঠকে মোছলেহ উদ্দিন ব্যবসায়ী নোমান সিদ্দিককে দোকান জ্বালিয়ে দেওয়ার এবং ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি দেন।
ব্যবসায়ী নোমান সিদ্দিক জানান, আজ রাত আনুমানিক পৌনে তিনটার দিকে দোকানের পাশে থাকা লোকজন আগুন জ্বলতে দেখে তাঁকে ফোনে জানান। খবর পেয়ে রাত সাড়ে তিনটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে দোকানে থাকা সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নোমান সিদ্দিক বলেন, “অভিযুক্ত মোছলেহ উদ্দিন আমার পাওনা টাকা না দিয়ে উল্টো আমাকে হুমকি দিয়েছিল। আজ রাতে সেই আমার দোকানে আগুন লাগিয়ে আমার সর্বস্ব শেষ করে দিয়েছে। দোকানে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। এই দোকানটিই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। আমি এখন পরিবার নিয়ে সম্পূর্ণ অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
যোগাযোগ করা হলে রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, “দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ দিলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
