
নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের আট দিন পর ফজলে রাব্বি ওরফে বাবু (২১) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ইয়াবা সংক্রান্ত পাওনা টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ওই যুবককে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত বাবু সদর উপজেলার হাজীরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব আলাদাদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বেল্লাল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাবু নিখোঁজ হন। পরদিন তাঁর বাবা চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে দুইজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
এর মধ্যে মো. শাহেদ (২৬) নামের একজনকে ঢাকা জেলার দোহার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর সন্দেহভাজন মাহফুজুর রহমান ওরফে কানা মাহফুজ পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার শাহেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চন্দ্রগঞ্জ এলাকার একটি দীঘির উত্তর পাশে কিরন নামের এক ব্যক্তির টয়লেটের সেফটি ট্যাংক থেকে বাবুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে শাহেদ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে শাহেদ জানান, মাহফুজের সঙ্গে বাবুর আর্থিক বিরোধ ছিল। বাবুর কাছে মাহফুজের কিছু টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা আদায় এবং বাবুর মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ইয়াবা সেবনের কথা বলে বাবুকে ডেকে এনে একটি নির্জন বাগানে নিয়ে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয় এবং বাবুর মোটরসাইকেলটি বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রোববার বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করা হয়।
