
নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় পূর্বের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নতুন বিয়ের প্রস্তুতিকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের গাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহিম উদ্দিন রুবেল (রফিকুল ইসলাম গাজীর ছেলে) ২০২৪ সালে দক্ষিণ চরবড়ালি গ্রামের রিমা আক্তারের সঙ্গে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি প্রবাসে চলে যান। কয়েক মাস আগে দেশে ফিরে এসে গত ৩ মার্চ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে স্ত্রী রিমাকে তালাক দেন।
পরবর্তীতে শনিবার তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। এ খবর পেয়ে প্রথম স্ত্রী রিমা আক্তার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা রুবেলের বাড়িতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এ ঘটনায় রিমা আক্তার, তাঁর মা কোহিনুর বেগম, ভাই সাইফুল ইসলাম, খালাতো ভাই রাব্বি ও খালা সাহিনুর বেগমসহ অন্তত ৭ জন আহত হন। গুরুতর আহত সাইফুল ইসলামকে প্রথমে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
রিমা আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁকে জোরপূর্বক বাবার বাড়িতে পাঠানো হয় এবং পরে নোটারি মাধ্যমে তালাক দেওয়া হয়েছে, যা তিনি বৈধ মনে করেন না। তাঁর দাবি, দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতির খবর পেয়ে তারা বাড়িতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে মহিম উদ্দিন রুবেল বলেন, শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি গত ৩ মার্চ আইনগতভাবে তালাক দিয়েছেন। তাঁর দাবি, দ্বিতীয় বিয়ের সময় প্রথম পক্ষের লোকজন এসে হামলা চালায় এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা আহত হন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি জানা গেছে, তবে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
