সাতক্ষীরায় ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় সুন্দরবন দিবস’ ঘোষণার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

সিরাজুল ইসলাম, ‌সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সুন্দরবন রক্ষা এবং ১৪ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জাতীয় সুন্দরবন দিবস’ ঘোষণার দাবিতে সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮  ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় সুন্দরবন দিবস উদযাপন কমিটি, সাতক্ষীরার উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়কে র‍্যালি শেষে পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও প্রবীণ সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ‘স্বদেশ’ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত। সভার মূল প্রবন্ধ (আলোচনা পত্র) উপস্থাপন করেন ‘সিডো’ সংস্থার পরিচালক শ্যামল বিশ্বাস।

আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের জিওলজি বিভাগের প্রভাষক মো. ওয়ালিউর রহমান, শিক্ষাবিদ আ. হামিদ, তরুণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রুবেল হাসান, ক্রিসেন্ট সংস্থার পরিচালক আবুজাফর সিদ্দীকি, বজলুর রহমান, ভুমিহীন নেতা আ. সামাদ, নদী বন ও পরিবেশ সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, টিআইবি সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক আমিনুর রহমান প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সুন্দরবন কেবল বাংলাদেশের ফুসফুস নয়, বরং এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং নানাবিধ মানবসৃষ্ট দুর্যোগে আজ সুন্দরবন হুমকির মুখে।

বক্তারা বনের অস্তিত্ব রক্ষায় ১০টি বিশেষ সংকটের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সুন্দরী গাছের ‘আগামরা’ রোগ ও বন্যপ্রাণী নিধন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে,

বনের অভ্যন্তরে বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা এবং প্লাস্টিক দূষণ ইকোসিস্টেম ধ্বংস করছে, পশুর চ্যানেল বাদেও বনের ভেতরের নদীগুলোতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাণবৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও কৃষিজমি অনাবাদী হয়ে পড়ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভালোবাসা দিবসের দিনে সুন্দরবনের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জাতীয় সুন্দরবন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। এছাড়া তারা সুন্দরবন বিষয়ে গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পৃথক ‘গবেষণা বিভাগ’ খোলার প্রস্তাব দেন।

সভা শেষে সুন্দরবন বিধ্বংসী সকল প্রকল্প বন্ধ এবং বনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নতুন সরকারের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।