পুলিশ সদস্যদের ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক : অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পুলিশ সদস্যদের মনোবল বাড়বে এবং সেবার মান উন্নত হবে।

রোববার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের ইন্সপেক্টর থেকে কনস্টেবল পদ পর্যন্ত সদস্যদের জন্য ওভারটাইম ভাতা বিবেচনা করা হতে পারে। পুলিশ বাহিনীকে আরও জনকল্যাণমুখী ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন চাকরি করেও অনেক পুলিশ সদস্য পদোন্নতি পান না। এ কারণে বিশেষ নীতিমালার আওতায় সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড বিবেচনায় অবসরের সময় কিছু সদস্যকে অনারারি পদোন্নতি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কনস্টেবল থেকে অনারারি এএসআই, এএসআই থেকে অনারারি এসআই এবং এসআই থেকে অনারারি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও অতিরিক্ত চাপের কারণে পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। প্রয়োজনে আরও আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসন ও বিভিন্ন ইউনিটের ভবন নির্মাণে সরকার আন্তরিক। ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত দুই মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। এ ছাড়া অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি কাজ করছে।

মব কালচার বন্ধে বিদ্যমান আইন সংশোধন ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।