
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর–২ (রায়পুর) আসনের একাধিক ভোটকেন্দ্র ঘিরে নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অতীতে সহিংসতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা পুনরায় মাথাচাড়া দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভোটকেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ এমনকি প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। বিশেষ করে যেসব কেন্দ্র অতীতে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল, সেগুলো নিয়ে উদ্বেগ বেশি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল ২০২৫ সালে রায়পুর উপজেলার ২ নম্বর চরবংশী ইউনিয়নের মালেক খাঁর বীজ সংলগ্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে সাইজুদ্দিন দেওয়ান নামে এক বিএনপি কর্মী দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন। গুরুতর আহত হন জসিম উদ্দিন, যিনি পরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সংঘর্ষে জড়িত একটি পক্ষের অনুসারীরা বিএনপির কয়েকজন নেতার বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, দুটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রগুলো এখন কোথায়? কেন দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি? তাঁদের আশঙ্কা, এসব অস্ত্র নির্বাচনকে সামনে রেখে কিংবা ভোটের দিন আবারও ব্যবহৃত হতে পারে।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ‘লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান চলমান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ বিষয়ে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন। আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করছি। কোথাও অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে যৌথ বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। এবার আগের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বেশি থাকবে।’
তবে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, কেবল আশ্বাস যথেষ্ট নয়। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার এবং কেন্দ্রভিত্তিক কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তাঁরা সতর্ক করে বলেন, সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে রায়পুরে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন কঠিন হয়ে পড়তে পারে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
