
নিজস্ব প্রতিবেদক :
মেঘনার ভাঙ্গন রক্ষা বাঁধ ও নদী ভাঙা মানুষের অধিকার শুধুমাত্র এ ইস্যুটি নিয়ে এবার সংসদে যেতে চান এ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান। সেজন্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে এবার স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর নির্বাচনে তার প্রার্থীতার কারণ জানাতে গিয়ে কেঁদে দেন এ প্রার্থী।
আবদুস সাত্তার পালোয়ান বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একজন আইনজীবি এবং লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার বাসিন্দা। মেঘনার ভাঙ্গনে ভেঙ্গে গেছে তার সহায়সম্পত্তি। তিনি “কমলনগর রামগতি বাঁচাও মঞ্চ” নামের একটি সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে নদী ভাঙা মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করেন।
তিনি এ সংগঠনের আহবায়ক। আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান বলছেন, মেঘনা নদীর একেবারে কূলে মা-বাবার কবর। মাঝেমধ্যে ঘুমের ঘরে স্বপ্ন দেখি,নদীর গর্ভে মা-বাবার কবর তলিয়ে গেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে এসে দেখি কবর আছে। কিন্তু জোয়ারে পানি ভর্তি কবরস্থান। আমার একটাই দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ। যদি আল্লাহ আমাকে সম্মানিত করে সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। সেদিন সংসদে দাঁড়িয়ে সর্বোচ্চ দাবি থাকবে নদী রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন করা। এ নদীর গর্ভে হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও ফসলি মাঠ বিলীন হয়ে গেছে। দিনদিন মানচিত্র থেকে দু’টি উপজেলা (রামগতি-কমলনগর) ছোট হয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কথাগুলো বলেন।
অ্যাডভোকেট সাত্তার আরও বলেন, ২৫ বছর ধরে এ মেঘনার ভাঙনে প্রায় অর্ধেক বিলীন হয়ে গেছে। লক্ষাধিক মানুষ তাদের সবকিছু হারিয়ে সর্ব শান্ত। স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও মাঠসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীর গর্ভে তলিয়ে গেছে। ২০১১ সাল থেকে নদী ভাঙন রোধে আন্দোলন করে আসছি। মিছিল-মিটিং, মানববন্ধন দোয়া অনুষ্ঠান করে আসছি। প্রায় শতাধিক কর্মসূচি পালন করছি। এসব আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে বহু বাদ-হুমকি শুনতে হচ্ছে।
২০১৪ সালে একটা প্রকল্প অনুমোদন হয়। সঠিক দেখভাল না করার কারণে কাজটির মেয়াদ শেষ হয়। এখনও ভাঙছে নদী। তবুও আমাদের সংগ্রাম থেমে থাকেননি। ২০২১ সালে সবচেয়ে বড় একটি প্রকল্প অনুমোদন টেকসই বেড়িবাঁধ দেওয়ার জন্য। ২০২৪ সালে কাজের মেদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এখন ২০২৩ সাল চলে মাত্র ৮% কাজ হয়েছে। এ কাজের অনিয়মের শেষ নেই।
মূলত এসব প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য সভাপতি হয়৷ এজন্য আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এমপি পদে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন থেকে দ্বাদশ সংসদ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।
ক্ষোভ-প্রকাশ করে অ্যাডভোকেট আব্দুর সাত্তার আরও বলেন- কমলনগর-রামগতি বাঁচাও মঞ্চ একটি সামাজিক সংগঠন। এ সংগঠনের ব্যানারে, যখনই মানববন্ধন অথবা কোনো কর্মসূচির আয়োজন করি তখনই বাঁধা হুমকি আসে। অনেকবার হামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। জীবনের ভয় নিয়ে এখন পর্যন্ত নদী ভাঙনরোধে আন্দোলন করে যাচ্ছি।
লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী। এছাড়া বর্তমান এমপি বিকল্পধারা বাংলাদেশ এর প্রার্থী দলের মহাসচিব মেজর (অবঃ) আবদুল মান্নান। আওয়ামীলীগ জোটবদ্ধ নির্বাচন করলে তিনি জোটের একমাত্র প্রার্থী হতে পারেন বলে বিকল্পধারার সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিয়েছেন, সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং নদীবাঁধ আন্দোলনের সংগঠক এডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
