৮ মাস পর শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় সাংবাদিক কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ বছর আগে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুর জেলায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলি করে শিক্ষার্থী সাদ আল আফনান হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সাংবাদিক রুবেল কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এর আগে সোমবার রাতে শহরের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকা থেকে তাদের মারধর করে পুলিশে তুলে দেয় একদল লোক। রুবেলকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে গ্রেপ্তারের পর রুবেল গণমাধ্যম কর্মীদেরকে জানায়, পরিকল্পিতভাবে তাকে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক হিসেবে সংবাদ পরিবেশনের জন্য ৪ আগস্ট তিনি ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছিলেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা মামলায় তার নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়।

রুবেল সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের আবিরনগর গ্রামের ফজল করিমের ছেলে। তিনি অনলাইন নিউজপোর্টাল ঢাকামেইলের লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি। এর আগে তিনি জেটিভি অনলাইন ও দেশেরপত্র পত্রিকার প্রতিনিধি ছিলেন।

রুবেলের বাবা ফজল করিম ও স্ত্রী রিমি আক্তারসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার রাতে রুবেল শহরের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকায় অবস্থান করছিল। সেখানে একদল লোক এসে তাকে মারধর করে পুলিশে হাতে তুলে দেয়। মারধরকারীদের মধ্যে মাথায় হেলমেট পড়া লোকজনও ছিল।

প্রসঙ্গত, ৪ আগস্ট শহরের মাদাম ব্রিজ এলাকায় যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি করে। এতে ব্রিজের ওপরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় শিক্ষার্থী সাদ আল আফনান। এ ঘটনায় আফনানের মা নাছিমা আক্তার বাদি হয়ে ৭৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৬০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। একইদিন তমিজ মার্কেট এলাকায় আন্দোলনকারী আরও তিন শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন, কাউসার হোসেন বিজয় ও ওসমান গণি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এসব হত্যা, বিস্ফোরক, হত্যা চেষ্টা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় থানা ও আদালতে পৃথক কয়েকটি মামলা হয়েছে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মোন্নাফ বলেন, রুবেল রাতে শহরের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে একদল লোক এসে তাঁকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। শিক্ষার্থী সাদ আল আফনান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। আদালত তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।