
সোহেল রানা বাবু, বাগেরহাট প্রতিনিধি : মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা (এনইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, বিএন)।
গতকাল রবিবার (৭ জুন) তিনি বিদায়ী চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমানের স্থলাভিষিক্ত হন।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমোডর মো. শফিকুল ইসলাম সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার বুঝে নেন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান। মোংলা বন্দরে যোগদানের আগে তিনি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-র চেয়ারম্যান হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
কর্মকর্তাদের সাথে প্রথম মতবিনিময় সভা: দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে সকল বিভাগীয় প্রধান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সিবিএ-র এডহক কমিটির সদস্যদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় বন্দরের চলমান ও অসমাপ্ত প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে নতুন চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়।
সভায় রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বন্দরের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে দলগতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। নতুন চেয়ারম্যান বলেন, “প্রশাসনিক কাজের জটিলতা হ্রাস করা সম্ভব হলে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সম্পাদন করা আরও সহজ হবে।” এর পাশাপাশি তিনি বন্দরের আয় বৃদ্ধি এবং ব্যয় সংকোচনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং অতিদ্রুত বন্দর ব্যবহারকারীদের সাথে আলোচনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নতুন চেয়ারম্যানের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৯২ সালে নির্বাহী শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক (ডিস্টিংশনসহ) এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মিলিটারি স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) মিরপুর, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) মিরপুর এবং নাইজেরিয়ার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের একজন প্রাক্তন ছাত্র।
দীর্ঘ ৩০ বছরের বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনে তিনি বিভিন্ন কমান্ড, প্রশিক্ষক ও স্টাফ অফিসার হিসেবে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ (ফ্রিগেট)—’বানৌজা ওমর ফারুক’ এবং ‘বানৌজা সমুদ্র জয়’-এর ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি ‘বানৌজা দুর্জয়’-এর কমিশনিং ক্যাপ্টেন এবং পেট্রোল ক্রাফট ‘বানৌজা ফরিদ’, ‘তিস্তা’, ‘মেঘনা’, ওপিভি ‘বানৌজা এসআর আমিন’ এবং নৌঘাঁটি ‘বানৌজা হাজী মহসিন’-এর অধিনায়ক হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
