লক্ষ্মীপুরে সালিশে বাগবিতণ্ডার জেরে বৃদ্ধকে গুলি, নাতির বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সালিশি বৈঠকে এক বৃদ্ধকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সন্ধ্যায় বশিকপুর ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের হামিদ উল্যাহ পাটওয়ারী বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ নজরুল ইসলামকে (৭০) উদ্ধার করে প্রথমে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালীতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম আশিক। তিনি গুলিবিদ্ধ নজরুল ইসলামের সম্পর্কে নাতি হন। ঘটনার পর থেকে আশিক পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রশিদপুর এলাকার ইসমাইল হোসেন ফারুক ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগমের সঙ্গে নজরুল ইসলামের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে শনিবার সকালে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের একপর্যায়ে আয়েশা বেগমের সঙ্গে নজরুল ইসলামের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই ঘটনার জের ধরে আয়েশা বেগম বিষয়টি মোবাইল ফোনে ঢাকায় অবস্থানরত তার ছেলে আশিককে জানান।

বিকেলে আশিক এলাকায় ফিরে সন্ধ্যায় পুনরায় বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি নজরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে নজরুল ইসলামের বাঁ হাতের কব্জির ওপরের অংশে গুলি লাগে।

গুলিবিদ্ধ নজরুল ইসলাম বলেন, “ফারুকের আমন্ত্রণে সালিশে গিয়েছিলাম। সেখানে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে নাতি আশিক এসে আমাকে গুলি করে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

আশিকের বাবা ইসমাইল হোসেন ফারুক বলেন, “আশিক আমার চাচাকে গুলি করেছে। ঘটনার পর থেকে সে আমাকেও বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমি এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দ্রুত বিচার দাবি করছি।”

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শামিম মোহাম্মদ আফজাল জানান, গুলিবিদ্ধ বৃদ্ধকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এক্স-রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শরীরের ভেতরে গুলি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালীতে রেফার করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, “ঘটনাটি শোনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে ধরতে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”