রামগতিতে বিয়ের ৬ মাসের মাথায় তরুণীর লাশ উদ্ধার, বিচারের দাবিতে থানা ফটকে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় স্বামীর বাড়ি থেকে মারিয়া জাহান মীম (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুজনগ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মারিয়া জাহান মীম রামগতি পৌরসভার চর সেকান্দর গ্রামের প্রবাসী আবদুল মালেকের মেয়ে এবং আলেকজান্ডার কামিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।

এদিকে, এই ঘটনায় থানায় তাৎক্ষণিক মামলা না হওয়ায় গতকাল বুধবার বিকেলে ভূমিহীন সংগঠন ও বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘নিজেরা করি’-র উদ্যোগে রামগতি থানা ফটকে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে নিহতের পরিবারসহ কয়েক শ নারী-পুরুষ অংশ নেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

পরে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতৃবৃন্দ রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে আলোচনা করেন। ‘আত্মহত্যার প্ররোচনা’র অভিযোগে মামলা দায়েরের আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা তাদের অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। নিহতের মা বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করবেন বলে জানা গেছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলেকজান্ডার কামিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ও সুজন গ্রামের মো. হানিফের ছেলে মো. মাহিমের (১৪) সঙ্গে মীমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তারা দুই পরিবারকে না জানিয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের কিছু দিন পর মাহিম তার স্ত্রী মীমকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ওঠেন। মেয়ের পরিবার প্রথমে এই বিয়ে মেনে না নেওয়ায় মীম স্বামীর বাড়িতেই অবস্থান করছিল।

গত মঙ্গলবার সকালে মীম মারা গেছে খবর পেয়ে মেয়ের পরিবার হতবাক হয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ময়নাতদন্তের পর স্থানীয় কিছু ব্যক্তির মধ্যস্থতায় ‘ক্ষতিপূরণ’ দেওয়ার আশ্বাস পেয়ে তারা লাশ দাফন করেন। কিন্তু দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই ছেলের পরিবার আপস-রফদার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে এবং বাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দেয়।

এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ হয়ে মেয়ের বাবা আবদুল মালেক থানায় এসে মামলা দায়েরের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

তিনি দাবি করেন, “আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ওসি মামলার প্রক্রিয়া শুরু করার পরামর্শ দেন।

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, মীমকে হত্যা করা হয়েছে নাকি এটি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত ‘আত্মহত্যার প্ররোচনা’র অভিযোগে মামলা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের একটি বিশেষ দল আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।