
মো. ওমর ফারুক, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত টাইলস মিস্ত্রি সাগর (৪০) মারা গেছেন। টানা ১৮ দিন ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। নিহত সাগরের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার মমিনপুর গ্রামে। তিনি প্রায় দুই দশক ধরে রায়পুর পৌরসভার হালিমা মাদ্রাসা মসজিদের পাশে ভাড়া বাসায় সপরিবারে বসবাস করতেন। পরিবারে তাঁর স্ত্রী জান্নাত আক্তার, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে রাছেল ও প্লে-শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে ইকরা রয়েছে। বাবার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অসহায়ত্বের মুখে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুন শুক্রবার বিকেলে রায়পুরের সাবেক ফরিদ এক্স-রে ক্লিনিকের পেছনে কাজ শেষে একটি দোকানে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সাগর। ওই সময় সেখানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির দৃশ্য দেখে তিনি প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘ ১৮ দিনের জীবনযুদ্ধের পর তিনি মারা যান।
সাগরের মৃত্যুতে রায়পুরে শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তার পরিণতি এমন হওয়া খুবই উদ্বেগজনক। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
পুলিশের বক্তব্য ঘটনার আইনগত দিক সম্পর্কে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ঘটনার পরই নিহতের শাশুড়ি বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এরই মধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে এক শ্রমজীবী মানুষের এই প্রাণহানি সমাজকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে।
