
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : তীব্র গরম, ঝড়-বৃষ্টি এবং কালবৈশাখীর আশঙ্কায় ঝুঁকি কমাতে আগাম কাঁচা টক আম বাজারে তুলছেন সাতক্ষীরা-এর চাষিরা। এতে জেলার বাজারে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে পুষ্টিগুণসম্পন্ন কাঁচা আমের ব্যাপক বেচাকেনা।
জেলার বড় বাজার সুলতানপুর বড়বাজার-এ প্রতিদিন শত শত মণ কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে, যা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব আম পাকলে তেমন দাম পাওয়া যায় না, কিন্তু কাঁচা অবস্থায় আচার, জুস ও জেলি তৈরিতে ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভালো দাম মিলছে।
বাজারে বর্তমানে কাঁচা টক আম মণপ্রতি ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা এবং কেজিপ্রতি ৪০–৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সদর উপজেলার ধুলিহর এলাকার আম চাষি মোকলেছুর রহমান বলেন, মৌসুম শুরু না হলেও ঝুঁকি এড়াতে এখনই টক জাতের আম পেড়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে তুলনামূলকভাবে লাভও ভালো হচ্ছে।
চাষিরা জানান, এ বছর গাছে মুকুল ভালো হলেও ফলন প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে। পাশাপাশি অনুকূল আবহাওয়া থাকলেও তীব্র গরম ও ঝড়-বৃষ্টিতে আম ঝরে পড়ার শঙ্কা বাড়ায় আগেভাগেই বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। রয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বাগান ও ১৩ হাজার চাষি। বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সাতক্ষীরার হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, মল্লিকা, গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম উৎপাদন ভালো হলে এবারও বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে।
উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, সবকিছু অনুকূলে থাকলে ইতালি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মানি ও ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে সাতক্ষীরার আম রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা আমে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টসহ নানা উপাদান রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত কাঁচা আম খেলে হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
চাষিরা বলছেন, এখনই কাঁচা আম বাজারজাত না করলে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
