
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার আম মানেই আলাদা স্বাদ আর সুবাস। আর সেই আম যদি হয় ‘আমের রাজা’ ল্যাংড়ার ঠিক আগের পৈঠার ‘হিমসাগর’, তবে তো কথাই নেই। দেশের বাজারে শতভাগ সুনাম ধরে রাখার পর সাতক্ষীরার বিখ্যাত হিমসাগর আম এবার পাড়ি জমাচ্ছে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে।
সরকারি আম সংগ্রহ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জেলাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে হিমসাগর আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ। প্রথম দিনেই জেলার সবচেয়ে বড় আমের মোকাম সুলতানপুর বড় বাজার ভরে গেছে এই নজরকাড়া আমে।
প্রথম দিনেই পাইকার ও ক্রেতাদের ভিড় সকাল আটটার দিকে সুলতানপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। শত শত ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে আমভর্তি ক্রেট নিয়ে চাষিরা অপেক্ষা করছেন। বাজারের ভেতরে যেন পা ফেলার জায়গা নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকারি ক্রেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রেতাদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ পরিবারের জন্য, আবার কেউ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠানোর জন্য মৌসুমের প্রথম হিমসাগর কিনতে ব্যস্ত।
গাজীপুর থেকে আসা পাইকার লুৎফর রহমান বলেন, “সাতক্ষীরার হিমসাগর আমের আলাদা কদর আছে। রং, ঘ্রাণ আর স্বাদের জন্য ঢাকায় এই আমের চাহিদা সব সময় আকাশচুম্বী। প্রথম দিনেই ভালো মানের আম পাওয়া যাচ্ছে, তাই বেশি করে কিনছি।”
এক যুগ ধরে এই জেলা থেকে আম কিনছেন নাটোরের পাইকার আবদুর রহমান মিয়া। তিনি বলেন, “বিশেষ করে হিমসাগরের জন্যই প্রতিবছর এখানে আসা। এখানকার মাটির গুণের কারণেই হয়তো আমের স্বাদ ও মিষ্টি অনন্য।”
বাজার দর ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাজারে আসা গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ ও গোলাপখাস আম তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হলেও হিমসাগরের দাম বেশ চড়া। বাজারে প্রতি মণ হিমসাগর বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। তবে পাইকারদের ধারণা, বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে কয়েক দিনের মধ্যে দাম কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে খুচরা বাজারে হিমসাগর প্রতি কেজি ৫৫-৬০ টাকায় এবং সাধারণ দেশি আম ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন সুলতানপুর বাজার থেকে প্রায় ৫০০ টন আম দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে যাচ্ছে। হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি আম পুরোপুরি পুরোদমে বাজারে নামলে দৈনিক বিক্রির পরিমাণ ও বাজারের আকার দ্বিগুণ হয়ে যাবে। কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, চলতি মৌসুমে জেলাটিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার আম বিক্রি হতে পারে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, “জেলায় এবার আমের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আমে যাতে কোনো ধরনের ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মেশানো না হয়, সে জন্য আমরা কঠোর নজরদারি রাখছি। একই সঙ্গে অপরিপক্ব আম ভাঙা থেকে বিরত থাকতে ব্যবসায়ী ও চাষিদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। আশা করছি, এবারও আমরা সফলভাবে বিদেশে আম রপ্তানি করতে পারব।”
