
অর্থনৈতিক সংকট ও মিলগুলোর চাহিদা হ্রাসকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা
সিরাজুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক | সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা তুলা আমদানি চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পে চাহিদা কমে যাওয়া ও অর্থনৈতিক সংকটকে এ পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা।
ভোমরা কাস্টম হাউজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে মোট ৮১৩ টন কাঁচা তুলা আমদানি হয়েছে, যার বাজারমূল্য ৪৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। অথচ গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১ হাজার ৫৫৬ টন, যার মূল্য ছিল ৮৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে আমদানি কমেছে ৭৪৩ টন।
আমদানিকারক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশীয় টেক্সটাইল মিলগুলোতে কাঁচা তুলার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে আমদানিতে।
ভোমরা বন্দরের তুলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুন্দরবন এজেন্সির স্বত্বাধিকারী পরিতোষ কুমার বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে স্থানীয় মিলগুলোতে তুলার চাহিদা কমে গেছে। ফলে আমদানিও কমে এসেছে।”
ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারেও তুলার দামে পতন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভারতে গত এক বছরে কাঁচা তুলার দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভারতে প্রতি পাউন্ড তুলা বিক্রি হয়েছে প্রায় ১১৪ টাকায়, যা বর্তমানে নেমে এসেছে ৯৫ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি পাউন্ডে দাম কমেছে প্রায় ১৯ থেকে ২০ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দেড় বছর ধরে দেশের পোশাক ও সুতা উৎপাদন খাত নানা ধরনের চাপে রয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কাঁচামালের চাহিদাও কমে গেছে।
একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“মিলগুলো আগের মতো উৎপাদনে যেতে পারছে না। অর্ডার কম, আর্থিক চাপও আছে। তাই তুলার আমদানিও কমেছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তুলা আমদানি কমে যাওয়ার প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পে উৎপাদন শৃঙ্খলে প্রভাব পড়তে পারে। এটি রপ্তানি আয়ের ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর ভোমরায় কাঁচা তুলা আমদানির এ হ্রাস শুধু বাণিজ্যিক নয়, শিল্প খাতের সামগ্রিক চাপেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
