খালের দখল ও বর্জ্য না সরালে খননের সুফল মিলবে না: পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : খালের ভেতরে জমে থাকা বর্জ্য ও অবৈধ দখলদারিত্ব অপসারণ না করলে খাল খনন কর্মসূচির প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী বাজার এলাকায় রহমতখালী খাল, চাঁদখালী–রহমতখালী খাল এবং পেয়ারাপুর ওয়াবদা খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের উদ্বোধনের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে খাল খনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুরে ইতিমধ্যে জকসিন খাল, মান্দারী খাল ও আমিনবাজার খালসহ কয়েকটি খাল পরিদর্শন করা হয়েছে। এসব খালের সঙ্গে অনেক সংযোগ খাল রয়েছে। তবে খালগুলোর ভেতরে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমে থাকা এবং বিভিন্ন স্থানে দখল হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বর্জ্য ও অবৈধ দখল অপসারণ না করলে খাল খননের সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, খাল খনন কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। যারা অবৈধভাবে খাল দখল করেছেন কিংবা সেখানে বর্জ্য ফেলছেন, তাদের আরও সতর্ক হতে হবে। সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতা থাকলে সরকারের নেওয়া কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েও খাল খনন ও সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল, মাছের চাষ বাড়েছিল এবং অনেক এলাকা স্বনির্ভর হয়ে উঠেছিল। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দেশকে আবারও স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে নির্বাচিত সরকার না থাকায় বিভিন্ন খাতেই অব্যবস্থাপনা ও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা দূর করে সমন্বিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনের সময় পানিসম্পদমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এ ছাড়া পেয়ারাপুর ওয়াবদা খালের ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা একটি মসজিদে অনুদান দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ জামান খান, রামগতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমতিয়াজ মাহমুদ, বি-স্ট্রং প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবু সালে মোহাম্মদ তোফায়েল চৌধুরী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, ফেনী পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সদর উপজেলা (পূর্ব) বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি এম বেলাল হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহসিন কবির স্বপন এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।