
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের চারটি সংসদীয় আসনের ৪৯৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন প্রার্থী ও ভোটাররা। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তবে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটারদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চারটি আসনের এমপি প্রার্থী ও তাঁদের দলীয় নেতাকর্মীরা বর্তমানে নির্বাচনী পথসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ভোটের দিন কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন অনেক ভোটার, বিশেষ করে নারী ভোটাররা।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর–১ (রামগঞ্জ) আসনে পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৭৪ হাজার ২৬১ জন। এর মধ্যে পোস্টাল ভোটার সাত হাজার ৪০ জন। লক্ষ্মীপুর–২ (রায়পুর ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনে ভোটার চার লাখ ৮৩ হাজার ৯৬২ জন এবং পোস্টাল ভোটার ১০ হাজার ৬৩ জন। লক্ষ্মীপুর–৩ (সদর) আসনে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৩৪ হাজার ৬০৫ জন, পোস্টাল ভোটার নয় হাজার ৮৬৭ জন। লক্ষ্মীপুর–৪ (কমলনগর ও রামগতি) আসনে ভোটার চার লাখ ১২ হাজার ২৯৩ জন এবং পোস্টাল ভোটার পাঁচ হাজার ৮৬৫ জন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, চারটি আসনের ৪৯৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক হাজার ৩১৩ জন পুলিশ সদস্য, ৬০০ জন সেনাসদস্য এবং ১০ প্লাটুন বিজিবিসহ প্রায় তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ভোটের চার দিন দায়িত্ব পালন করবেন।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চারটি আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো ঘিরে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। ভোটের দিন ও আগের দিন সহিংসতার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন অনেকে।
লক্ষ্মীপুর–২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “একটি দলের প্রার্থী আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই আসন নিয়ে তারা ঝামেলা করতে চায়। ভোটের দিন সহিংসতার আশঙ্কা করছি। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।”
জামায়াতের প্রার্থী রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, “একটি দলের প্রার্থী ও তার নেতাকর্মীরা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। গণসংযোগে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা আছে। আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পুলিশের পাশাপাশি ফেনী–৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন দায়িত্ব পালন করছে। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোশারফ বলেন, নির্বাচনকালীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই বিজিবির প্রধান লক্ষ্য। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। টহল, স্ট্রাইকিং ফোর্স, অস্থায়ী চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হবে।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, “শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি প্রায় তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন।”
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মেহেদী হাসান বলেন, “জেলার পাঁচটি উপজেলার চারটি সংসদীয় আসনে পৌরসভাসহ ৪৭টি ইউনিয়নের ৪৯৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি রয়েছে।”
