লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের বাম্পার ফলন: আয়ের সম্ভাবনা সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ মাস আগে

নাজমুল হোসেন : দেশের সয়াবিন উৎপাদনের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মীপুরে এবার সয়াবিনের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উৎপাদিত সয়াবিন থেকে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা দেখছে জেলা কৃষি বিভাগ। তবে মৌসুমি কালবৈশাখী ও বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে মূলত রবি মৌসুমে সয়াবিনের ব্যাপক চাষ হয়। বিশেষ করে জেলা সদর, রায়পুর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার কৃষকদের কাছে আমন ধান কাটার পর সয়াবিন চাষ অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৪৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৪৫ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে ৯০ হাজার ১৩০ মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, ধানের তুলনায় সয়াবিন চাষে পরিশ্রম ও উৎপাদন খরচ কম, কিন্তু লাভের পরিমাণ বেশি। এ কারণেই প্রতিবছর আমন ধান কাটার পরপরই কৃষকরা সয়াবিন চাষে ঝুঁকে পড়েন। দেশের মোট সয়াবিন চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই এই জেলা থেকে জোগান দেওয়া হয়।

ফলন ভালো হলেও শেষ সময়ে কালবৈশাখী ও বৃষ্টি কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। যেসব জমিতে সয়াবিন এখনো কাটা হয়নি, বৃষ্টির পানি জমে সেখানে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক কৃষকের অভিযোগ, বৃষ্টির কারণে অর্ধেকের বেশি ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা তাদের উৎপাদন খরচ ওঠানোই কঠিন করে তুলবে। এমন দুর্যোগ প্রতিবছরই তাদের মোকাবিলা করতে হয় বলে তারা জানান।

**কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রত্যাশা**

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ জমির সয়াবিন কাটা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ফসল দ্রুত ঘরে তোলার জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জহির আহমেদ বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে এবার সয়াবিন আবাদ হয়েছে। আশা করছি, চলতি মৌসুমে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার সয়াবিন উৎপাদিত হবে।’

তবে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের দাবি, ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সময়োপযোগী পরামর্শের পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।