
আলামীন, রংপুর: রংপুরের দুটি সংসদীয় আসনে ভোটের ফল পুনর্গণনার দাবিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত হয়।
রংপুর–৪: হারাগাছে সড়ক অবরোধ
রংপুর–৪ আসনে ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সমর্থিত প্রার্থী **এমদাদুল হক ভরসা**র কর্মী-সমর্থকেরা। শুক্রবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হারাগাছ এলাকায় তাঁরা সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। একই দাবিতে পীরগাছা উপজেলা শহরেও বিক্ষোভ হয়।
এদিকে ওই আসনের বেসরকারিভাবে ঘোষিত বিজয়ী আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ চলাকালে তাঁর দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মাইকিং করে কর্মীদের খুঁজে বের করে মারধর করা হচ্ছে এবং অগ্নিসংযোগের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতারা বলেন, ঘটনাগুলো ‘সাজানো’ এবং তাঁদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানান হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চোহান। তিনি বলেন, “হাজারো মানুষ সড়ক অবরোধ করায় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
ফলাফল পুনর্গণনার দাবিতে জেলা প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদনও জমা দেন এমদাদুল হক ভরসা। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের সহায়তায় ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ফল পরিবর্তন করা হয়েছে এবং প্রায় ৮ হাজার ৫০০ ভোট বাতিল করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজী মো. শাহান বলেন, আবেদনটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, রংপুর–৪ আসনে আখতার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
রংপুর–৬ (পীরগঞ্জ): ঘেরাও কর্মসূচি
অন্যদিকে রংপুর–৬ (পীরগঞ্জ) আসনেও ফল পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলাম-এর সমর্থকেরা উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করে পুনর্গণনার দাবি জানান।
এই আসনে মাওলানা মো. নুরুল আমিন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট।
প্রশাসনের উদ্বেগ
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
