
আলামীন রংপুর : রংপুর, ৪ জুলাই ২০২৫ — আজ বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে দীর্ঘ ১৭ বছর পর জামায়াতে ইসলামি ও তার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের আয়োজনে একটি ভরাডুবি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে শুরু হওয়া এই সমাবেশে হাজার হাজার নেতা-কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন।
২ জুলাই রংপুর মহানগর ও জেলা জামায়াতের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আবদুল হালিম (সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও রংপুর–দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক) এই সমাবেশের আয়োজন ঘোষণা করেন ।
আয়োজনের উদ্দেশ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়: ‘জুলাই হত্যা’‑র বিচারের দাবি, রাজনৈতিক সংস্কার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সমতা প্রতিষ্ঠা, তিস্তা মহা‑পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার । স্থানীয় কমিটিগুলো নিযুক্ত করা হয়েছে, এবং সকাল থেকেই আট জেলার গ্রাম‑গঞ্জ থেকে মাইক্রোবাস, ট্রাক, অটোরিকশা, বাইসাইকেল ও হেঁটে শত শত নেতাকর্মী সমাজসভাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির, ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এ.টি.এম. আজহারুল ইসলাম, যিনি দীর্ঘ ১৪ বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছেন। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (নায়ী আমির), সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়র, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, এবং কেন্দ্রীয় শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
এক লক্ষাধিক নেতাকর্মীর সমাগম নিশ্চিত করাই আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল—আর সে লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে সকাল থেকেই উপস্থিতি বাড়তে থাকে। রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও পঞ্চগড় জেলার গ্রাম-গঞ্জ থেকে দলবদ্ধভাবে মানুষ আসেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে তোরণ নির্মাণ, পোস্টার, ব্যানার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারকার্য চলছিল সপ্তাহ ধরে।
রংপুর মহানগর পুলিশ চার স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী ও শীর্ষ কর্মকর্তারা ৩ জুলাই সমাবেশস্থল এখন পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করেন ।
কবে? ৪ জুলাই ২০২৫ (শনিবার), বিকেল ৩টা শুরু
কতোদিন পর? প্রায় ১৭ বছর পর আবার বিভাগীয়–স্তরের সমাবেশ।
কেন? রাজনৈতিক সংস্কার, বিচারের দাবি, তিস্তা প্রকল্প, সমান নির্বাচন পরিবেশ ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য।
প্রধান অতিথি ও বক্তা? শফিকুর রহমান (আমির), এ.টি.এম. আজহারুল ইসলাম (প্রধান বক্তা), অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।
প্রত্যাশিত উপস্থিতি? লক্ষত্র সর্বাধিক—জামাত ও শিবিরের কর্মীরা দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা থেকে যোগ দিয়েছেন।
মিডিয়া ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, জনসভা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠভাবে শেষ হওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই অনুষ্ঠানের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
