মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৫ দিন আগে

গিয়াস রনি, নোয়াখালী : নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় মো. ফারুক ওরফে শহীদ (৫০) নামে এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাতে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন দুই যুবককে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

নিহত ফারুক উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক ছিলেন। তিনি স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজারের ব্যবসায়ী ছিলেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. আরশাদ ওরফে আকাশ (২৪) ও মো. সাজ্জাদ হোসেন (১৯)।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক আরশাদ এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। গত মঙ্গলবার রাতে তেঁতুলতলা বাজারের একটি দোকানে আরশাদের মাদক সেবন নিয়ে কথা ওঠে। এ সময় তিনি উপজেলা ছাত্রদল নেতা জহিরকে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। তখন দোকানে উপস্থিত ফারুক প্রতিবাদ করলে আরশাদকে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরদিন বুধবার সকালে আরশাদ ফারুককে হত্যার হুমকি দেন। ওইদিন রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তেঁতুলতলা বাজার সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে পেছন থেকে ফারুকের মেরুদণ্ডে ছুরিকাঘাত করেন আরশাদ।

নিহতের বড় ছেলে মো. ইমরান হোসেন বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় বাবাকে প্রথমে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত দুইটার দিকে চৌমুহনী এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আটক দুই যুবকের মধ্যে আরশাদ স্থানীয় আল আমিনের ছেলে এবং সাজ্জাদ স্থানীয় দুলালের ছেলে।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বলেন, মাদক সেবনের প্রতিবাদ করার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।