নোয়াখালীর তিন উপজেলায় বজ্রাঘাতে এক শিক্ষার্থীসহ ৩ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : নোয়াখালীর কবিরহাট, হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক বজ্রাঘাতের ঘটনায় এক মেধাবী শিক্ষার্থীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন সুবর্ণচরের তানজিনা আক্তার (১৭), কবিরহাটের মো. আয়মান (৯) এবং হাতিয়ার আরাফাত হোসেন (২২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলার চরআমান উল্যাহ ইউনিয়নে বজ্রাঘাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে তানজিনা আক্তার মারা যান। তিনি স্থানীয় ইসমাইলিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত বছর দাখিল পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৫ পেয়ে উপজেলার শীর্ষ ফলাফলের মধ্যে ছিলেন।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘরের পাশেই বজ্রপাতের শব্দে তিনি তীব্র আতঙ্কে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এর আগে সোমবার দুপুরে কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নে বাড়ির আঙিনায় খেলতে থাকা অবস্থায় বজ্রাঘাতে মো. আয়মান (৯) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে স্থানীয় রফিক মিয়ার ছেলে। পরে তাকে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

একই দিনে হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নে মাঠ থেকে বাদাম তুলে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে আরাফাত হোসেন (২২) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়। স্বজনদের মতে, মায়ের সামনেই বজ্রাঘাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং সুরতহাল শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন বজ্রাঘাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের মধ্যে এই আকস্মিক মৃত্যুগুলো নিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই বজ্রপাতের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।