নাটোর–রাজশাহী রুটে বাস চলাচল বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

মালিক সমিতির দ্বন্দ্বে ভোগান্তিতে যাত্রীরা

মো: আনোয়ার হোসেন  , নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর : নাটোর ও রাজশাহীর বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বে দুই জেলার মধ্যে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ বিরোধের কারণে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট বাসের চলাচল ঘিরেই এই বিরোধের সূত্রপাত। নাটোর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের মালিকানাধীন ‘আদনান পরিবহন’ নামের একটি বাস রংপুর–রাজশাহী রুটে চলাচল করে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ করে রাজশাহী মালিক সমিতির একটি বাস একই রুটে আগে চলাচল শুরু করলে বিরোধ দেখা দেয়।

নাটোরের বাস মালিকদের অভিযোগ, বিরোধের জেরে রাজশাহীতে প্রবেশ করা তাদের বাস আটকে দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো বাসই নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারেনি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।

রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, “রাজশাহীর একটি বাস দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি রুটে নামানো হয়েছে এবং সেটি নিয়ম মেনে চলাচল করছে। কিন্তু নাটোরের ‘আদনান’ পরিবহন নির্ধারিত নিয়ম না মেনে চলাচল করায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে নাটোর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা তা মানেননি। বরং সকালে নাটোরে রাজশাহীর বাস আটকে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, “রাজশাহীতে প্রবেশ করা বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হলেও নাটোর থেকে আমাদের বাস বের হতে দেওয়া হয়নি। এমনকি ঢাকাগামী বাসের কাউন্টারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন নাটোর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি প্রশান্ত কুমার পোদ্দার লক্ষ্মণ। তিনি বলেন, “আমরা কোনো বাস আটকে দিইনি। বরং রাজশাহীতেই আমাদের ৭ থেকে ৮টি বাস আটকে রাখা হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, আগের একটি বিরোধ মীমাংসা হলেও রাজশাহী পক্ষ নাটোরকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না, যার ফলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই বন্ধ রয়েছে বাস চলাচল। এতে করে সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। অনেকে বাধ্য হয়ে সিএনজি, অটোরিকশা বা বিকল্প পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করছেন।

যাত্রীরা জানান, হঠাৎ করে বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

দুই পক্ষের এই দ্বন্দ্বের কারণে পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সমাধান না হলে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।