
তরুণদের ভূমিকা ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব
সিরাজুল ইসলাম ; জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা প্রতিটি মানুষের জীবনকে ছুঁয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশকর্মীরা। এই সংকট মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বক্তারা।
বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতামূলক একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে যুব সংগঠন ‘ভলেন্টিয়ার ফর এনভায়রনমেন্ট’। অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শেখ শাহরুখ ফারহান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন প্রতিটি মানুষকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক দূষণ এখন নদী-নালা, বনাঞ্চল এমনকি খাদ্যচক্রেও প্রবেশ করেছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, রিসাইক্লিং এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
অনুষ্ঠানে ‘জেন জি’ প্রতিনিধি ও ভলেন্টিয়ার আমিমুল ইহসান বলেন, তরুণদের দক্ষ ও সচেতন হতে হলে এ ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “নতুন প্রজন্মকে সামনে এগিয়ে নিতে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।”
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ নদী, সাগর ও সবুজ প্রকৃতির এক সমৃদ্ধ দেশ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ভারসাম্য ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
তারা আরও বলেন, শিল্পায়ন ও কার্বন নিঃসরণের প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। ফলে কৃষি, মৎস্য, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিসহ সব খাতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় মানুষের স্থানচ্যুতি বাড়ছে, যা শহরমুখী অভিবাসন ও নগর সংকটকে আরও তীব্র করছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।
