
ভূমি অফিসের নথি জালিয়াতির ঘটনায় অবশেষে চাকরীচ্যুত হলেন মতলব পৌর ভূমি অফিসের সাবেক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হাবিব উল্ল্যাহ পাটোয়ারী।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ এর ৩ (খ) ও ৩ (ঘ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ এর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে একই বিধিমালার বিধি ৪ এর উপবিধি ৩ (গ) অনুযায়ী চাকুরী থেকে অপসারণ এর মতো গুরুদন্ড প্রদান করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চাকুরিচ্যুত ওই ভূমি কর্মকর্তা মতলব পৌর ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাবস্থায় মতলব পৌর এলাকাধীন নিলক্ষী, দিঘলদী, চর পাথালিয়া, দক্ষিণ উদ্দমদী ও বাইশপুর মৌজার মোট ১৮ একর ৮৫ শতাংশ সরকারি খাস জমি সরকারের নামে থাকা ১নং ও ১/১ নং খতিয়ানভুক্ত না করে অনিয়মের মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকানা খতিয়ান তৈরি করে ভলিয়মে সংযুক্ত করে। সরকারি মূল্য হিসেবে এতে সরকারের সাত কোটি চার লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও মতলব পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র কলাদী মৌজায় ‘ক’ তফসিলভুক্ত ভূমি অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে নামজারি জমাখারিজের প্রস্তাব করলে তাঁকে সর্তক করার পরও তিনি ‘ক’ তফসিলের জমি নামজারির জন্য পুনঃরায় প্রস্তাব করেন।
সূত্রে আরো জানা যায়, সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি খাস ভূমি অন্যের নামে রেকর্ডভুক্ত করতঃ ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণ, কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য, সরকারি স্বার্থ পরিপন্থি ও সরকারি সম্পত্তি বেহাত করার অপচেষ্ঠায় লিপ্ত থাকা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে অবৈধভাবে উৎকোচ গ্রহণ করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকুরী বিধিমালা অনুসারে বিভাগীয় মামলা হয়।
সেই মামলায় তার বিরুদ্ধে অনিত অভিযোগ প্রশাণিত হওয়ার গত ১৩ ফেব্রæয়ারী, ২০২৫ ইং তারিখে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব খাশা থেকে ২৪৬ স্মারকে হাবিব উল্ল্যাহ পাটোয়ারীকে চাকুরী থেকে অপসারণ করা হয়।
উল্লেখ্য যে, গত ২০২৪ সালের ৪ জুন দৈনিক চাঁদপুর খবর ‘মতলব পৌর ও উপজেলা ভূমি অফিসের নথি জালিয়াতি, সরকারি সম্পত্তি রেকর্ড করা হয়েছে ব্যক্তি নামে’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে মতলব পৌর ভূমি অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিসে থাকা পৌর এলাকাধীন বিভিন্ন মৌজার ভলিয়মে খতিয়ান জালিয়াতি করার বিষয়টি উঠে আসে। পরবর্তীতে একই বছর ১২ জুলাই ‘মতলবের সেই আলোচিত পৌর ভূমি কর্মকর্তার হাবিবউল্লার বিরুদ্ধে তদন্ত’ শিরোনামে আরও একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
