কমলনগরে কলেজছাত্রীর মৃত্যু: শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় নুসরাত জাহান সুমাইয়া (২১) নামের এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ স্বামী সজিব আহমেদ জয় (২৫)–কে আটক করেছে। তবে শাশুড়িসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।

শুক্রবার (১ মে) রাতে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরকাদিরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ সুমাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত সুমাইয়া উপজেলার হাজিরহাট এলাকার আবুল কালাম হায়দারের মেয়ে। তিনি হাজিরহাট উপকূল সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, একই কলেজে পড়াশোনার সময় সুমাইয়ার সঙ্গে দক্ষিণ চরকাদিরা এলাকার মৃত আলমগীর হোসেনের ছেলে সজিব আহমেদ জয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় আড়াই বছর আগে তাঁরা আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। তবে এ বিয়ে জয়ের পরিবার মেনে নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে দাম্পত্য জীবনে নানা ধরনের অশান্তি দেখা দেয় এবং বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিস–বৈঠকও হয়েছে।

নিহতের স্বজনেরা জানান, শুক্রবার বিকেলে জয় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সুমাইয়াকে তাঁর বাবার বাড়ির সামনে নিয়ে আসেন। তখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে লক্ষ্মীপুরের স্টার কেএস হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর মরদেহ নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বামী জয়কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহতের বাবা আবুল কালাম হায়দার অভিযোগ করেন, পরিবারের অমতে বিয়ে করায় শাশুড়িসহ স্বামীর পরিবারের সদস্যরা সুমাইয়াকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। স্বামীও তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে শাশুড়ি ও ভাসুর সুমাইয়াকে দায়ী করেন। এ নিয়ে তাঁকে গালমন্দ করা এবং হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ‘এসবের প্রতিবাদ করায় স্বামীসহ শাশুড়ি, ভাসুর ও ভাসুরের স্ত্রী মিলে শ্বাসরোধ করে সুমাইয়াকে হত্যা করেছেন। পরে এটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে,’—দাবি করেন তিনি।

আবুল কালাম হায়দার বলেন, ‘এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মেয়ের গলায় নখের আঁচড়ের চিহ্ন রয়েছে। আত্মহত্যার ক্ষেত্রে সাধারণত যে লক্ষণ থাকে, সেগুলো তাঁর শরীরে নেই। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।