নোয়াখালীতে দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা: দুই আসামী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ বছর আগে

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানায় এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী অভিযানে এজাহারনামীয় দুই আসামীকে আজ শনিবার গ্রেফতার করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে কমলনগর উপজেলায়। 

“র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী কর্তৃক নোয়াখালী জেলায় পৃথক অভিযানে লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানায় চাঞ্চল্যকর দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ২ জন আসামী মাকছুদ(২৪) ও আলমগীর(২৩) গ্রেফতার”

র‍্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধের উৎস উদ্ঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতার, আইন-শৃঙ্খলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য র‍্যাব ফোর্সেস নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। জঙ্গি, মাদক, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, সাজাপ্রাপ্ত আসামী, ধর্ষণকারী ও বিভিন্ন অপরাধীকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‍্যাব- ১১ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী এর আভিযানিক দল লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানার মামলা নং-০৭, তারিখ-১০/০৪/২০২৫ইং, ধারা-১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/325/326/307/302/354/379/ ৫০৬/৩৪ পেনাল কোড এর এজাহারনামীয় ০৪নং আসামী মাকছুদ (২৪)কে  আজ শনিবার (১৪ জুন) বিকালে নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানাধীন ঘোষবাগ ইউপি এলাকা হতে এবং এজাহারনামীয় ০৬নং আসামী আলমগীর (২৩)কে সন্ধ্যার সময় নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন বসুরহাট পৌরসভা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এজাহার পর্যালোচনায় জানা যায় যে, সূত্রে বর্ণিত মামলার বাদী বজলুর রহমান ভুলু(৩০) লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানার বাসিন্দা ও নিহত ব্যক্তি নুরুল আমিন সর্দার(৭০) তার পিতা। গত ৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১ টার সময় সূত্রোক্ত মামলার এজাহারনামীয় আসামীসহ অপরাপর অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন আসামীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার উদ্দেশ্যে বাদীর পথরোধ করে বাদীকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। ঘটনাস্থলের পাশে বাদীর বসত-বাড়ি হওয়ায় বাদীর শোর-চিৎকারে তার দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী পিতা ভিকটিম নুরুল আমিন সর্দার(৭০) এগিয়ে আসলে তাকেও এলোপাথাড়ি মারধর করতঃ মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ভিকটিমের বুক-পিঠ, তলপেট ও মাথায় আঘাত করে। এতে বাদীর পিতা ভিকটিম নুরুল আমিন সর্দার গুরুতর আহত হলে তাকে বাঁচাতে বাদীর পরিবার ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনেরা এগিয়ে আসলে এজাহারনামীয় আসামীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে তাদেরকেও আক্রমণ করে গুরতর জখম করে। 

পরবর্তীতে ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর এজাহারনামীয় ও অপরাপর অজ্ঞাতনামা আসামীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে বাদীর পিতা ভিকটিম নুরুল আমিন সর্দার(৭০) সহ বাদী ও তার পরিবার-আত্মীয়স্বজন চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিম নুরুল আমিন সর্দার(৭০)কে মৃত ঘোষণা করেন। 

বাদী ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫/২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে এজাহার দায়ের করলে সূত্রে বর্ণিত মামলাটি রুজু হয়। মামলাটি রুজু হওয়ার পর হতে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামীরা গ্রেফতার এড়ানোর লক্ষ্যে পলাতক ছিল। 

র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী এর আভিযানিক দল উক্ত মামলার এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামীদেরকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা কার্যক্রম আরম্ভ করে। 

পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী এর আভিযানিক দল আজ শনিবার বিকালে নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানাধীন ০৪নং ঘোষবাগ ইউপির ০২নং ওয়ার্ডের রামবল্লভপুর সাকিনস্থ হালিমের মোকাম নামক বাজারস্থ বাহারের হোটেলের সামনে অভিযান পরিচালনা করে সূত্রে বর্ণিত হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ০৪নং আসামী মাকছুদ (২৪), পিতা-রুহুল আমিন, সাং-তোরাবগঞ্জ (০২নং ওয়ার্ড), থানা-কমলনগর, জেলা- লক্ষ্মীপুরকে এবং একই তারিখ সন্ধ্যার সময় নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন বসুরহাট পৌরসভার সামনে হতে একই মামলার এজাহারনামীয় ০৬নং আসামী আলমগীর (২৩), পিতা-মনির, সাং-তোরাবগঞ্জ (০২নং ওয়ার্ড), থানা-কমলনগর, জেলা- লক্ষ্মীপুরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। 

গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে তারা বর্ণিত নিজ নিজ নাম-ঠিকানা প্রকাশ করে এবং ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন আছে।

স্থানীয়রা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকাহত। 

একজন প্রতিবেশী বলেন, “এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড আমাদের এলাকায় আগে কখনো হয়নি। আমরা দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।”

র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক বলেন, “আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেফতার করেছি। তদন্ত চলছে, এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের হত্যাকাণ্ড কমলনগর এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে আসামীদের গ্রেফতার হলেও, এলাকাবাসী ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছে।