
সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটের উপকূলীয় মানুষের জন্য সরকারি পানির ট্যাংক যেন “সোনার হরিণ”; স্বজনপ্রীতি ও টাকার বিনিময়ে বিতরণ চলছেই।
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা: উপকূলীয় এলাকায় খাওয়ার পানি সংকট ক্রমশ বাড়ছে। মীরা ও তার স্বামী দিনমজুরি করে পুকুর থেকে পানি আনেন। তার মতো হাজারো মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে পুকুর থেকে লবণাক্ত পানি সংগ্রহ করছেন। সরকারের বরাদ্দকৃত ৩ হাজার লিটার ট্যাংক পাওয়া যাচ্ছে টাকার বিনিময়ে বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় মোট ৭৬,৫৫৯টি পানির উৎসের মধ্যে ১২,০৭৩টি অকেজো। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেমের ১,৫০০ টাকা সহায়ক চাঁদার বাইরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে ঘুষ নেওয়া হচ্ছে।
দাকোপ, বটিয়াঘাটা, কয়রা, পাইকগাছা, তেরখাদা, ডুমুরিয়া ও রূপসার উপজেলার রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং প্রকল্পে বরাদ্দের অর্ধেক ট্যাংক সাবেক সংসদ সদস্যদের তালিকা অনুযায়ী বিতরণ হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্যাংক পেতে প্রয়োজনীয় ঘুষ দিতে হচ্ছে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা। কিছু ক্ষেত্রে ট্যাংক বিতরণের নামে টাকা নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষকে পৌঁছায় না। প্রতিটি ইউনিটে ট্যাংক, পাইপ, পাটাতন নির্মাণের খরচ থাকলেও বিতরণ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে সুবিধা মিলছে অনেকে মাত্রই।
খুলনা অঞ্চলের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, উপকূলীয় মানুষের জীবন রক্ষাকারী পানির ন্যায্য সরবরাহ নিশ্চিত না হলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে।
খুলনার ৭৬,৫৫৯টি পানির উৎসের মধ্যে ১২,০৭৩ অকেজো।
সরকারি রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ট্যাংক বিতরণে ঘুষ, স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব।
একজন সাধারণ পরিবার ট্যাংক পেতে দিতে হচ্ছে ৩-১০ হাজার টাকা।
প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ৪৫ হাজার টাকার মধ্যে ১,৫০০ টাকা সরকারি সহায়তা; বাকি খরচ অনিয়মে চলে যাচ্ছে।
উপকূলের মানুষ প্রতিদিন মাইলের পর মাইল হাঁটছেন সুপেয় পানি আনতে।
