লক্ষ্মীপুরে আগাম টমেটো চাষে লিফ কার্ল ভাইরাসের হানা, দিশেহারা কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের মিয়ারবেড়ি ও সুতারগোপ্টা এলাকায় আগাম টমেটো চাষে হানা দিয়েছে লিফ কার্ল ভাইরাস। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অনেক ক্ষেতের গাছ মরে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। উৎপাদন শুরুর আগেই ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এক একর জমিতে আগাম টমেটো চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষক মহিউদ্দিন। প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে তাঁর। দেড় মাস আগে রোপণ করা গাছে এখন ফুল আসতে শুরু করেছিল। আরও দেড় মাস পর বাজারজাত করার আশা ছিল। কিন্তু রোগ দেখা দেওয়ার পর একের পর এক গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। নানা ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে জানান তিনি। একই অবস্থা পাশের ৮ একর জমিতে টমেটো আবাদ করা কৃষক জালালের।

মাঠপর্যায়ে কাজ করা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আক্রান্ত গাছে লিফ কার্ল ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সাদা মাছি এই ভাইরাস এক গাছ থেকে আরেক গাছে ছড়িয়ে দেয়। এ অঞ্চলে এবারই প্রথম এ ধরনের সংক্রমণ দেখা গেল। অনেক কৃষক ভাইরাস সম্পর্কে ধারণা না থাকায় শুরুর দিকে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিতে পারেননি।

বিশেষজ্ঞেরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। অক্টোবর মাসে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, দিনে গরম আর রাতে হঠাৎ শীত—এই বৈরী আবহাওয়া ভাইরাসের বিস্তার বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে গাছের পাতা কুঁকড়ে যায়, পুরু হয়ে ওঠে, ফুল ঝরে পড়ে ও ফল ধারণ কমে যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জহির আহমেদ বলেন, ‘আমরা মাঠের কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলে মাটিতে পুঁতে ফেলতে বলেছি। কিন্তু অনেক কৃষক এখনো গাছ তুলতে চান না।’

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজির আবাদ লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৭৮ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তিন হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। লিফ কার্ল সংক্রমণ বেড়ে গেলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে জেলা কৃষি দপ্তর। সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্টরা।