পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষা খাতের উন্নয়নকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলুর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রথমবারের মতো জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে জোর বাজেট বরাদ্দের বিস্তারিত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি)’-এর আওতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৩ হাজার ৫৯৯ কোটি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য ৮১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২১ জন শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে বিষয়ভিত্তিক পেশাগত উন্নয়ন, নেতৃত্ব বিকাশ, ব্লেন্ডেড লার্নিং, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বুলিং প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটে ৩ হাজার ৪০ দশমিক ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ‘প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-৫ (পিইডিপি-৫)’-সহ পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

ঝরে পড়া রোধে কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে নেওয়া উদ্যোগগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এবং আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ক্রীড়া উপকরণ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের জন্য ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তির জন্য ৫ হাজার ৫৩৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।