
নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর : নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ৩ নম্বর জোনাইল ইউনিয়নের চৌমুহন গুচ্ছ গ্রাম এলাকায় স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও যুবসমাজের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে আয়োজিত এই মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
কর্মসূচি থেকে বক্তারা সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
‘সম্মিলিত প্রতিরোধ ছাড়া বিকল্প নেই’
স্থানীয় সমাজসেবী আলহাজ্ব রুমাল প্রাং-এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বড়াইগ্রাম উপজেলা জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক আহ্বায়ক মো. লিয়াকত আলী আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের প্রধান অন্তরায় হলো মাদক ও সন্ত্রাস। তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে সমাজ থেকে মাদক ও চাঁদাবাজদের সমূলে উৎপাটন করতে হবে। আর এর জন্য সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নেই।”
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ নুর আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত ইউনিয়ন গঠনই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ জাগ্রত হলে অপরাধীরা পার পাবে না।”
মানববন্ধনে বক্তারা এলাকাভিত্তিক ‘মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর প্রস্তাব দেন। একই সাথে নিজ নিজ সন্তান ও পরিবারের প্রতি অভিভাবকদের আরও বেশি দায়িত্বশীল ও নজরদারি বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়।
অংশ নেন শিক্ষক ও যুবসমাজ
কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মুক্তা, প্রফেসর সাগর আহম্মেদ এবং আদগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইসাহাক আলী। যুবসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় যুবদল নেতা সজীব ও ফাইজুর রহমান চঞ্চলসহ বেশ কয়েকজন তরুণ সংগঠক।
শিক্ষকেরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, যুবসমাজই দেশের চালিকাশক্তি। অথচ মাদকের ভয়াল থাবা এই শক্তিকে নিস্তেজ করে দিচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সাথে নিয়ে এখনই এই সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করার সময় এসেছে।
মানববন্ধনে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অংশ নেওয়া স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় এ ধরনের আয়োজন সাধারণ মানুষকে সাহস জোগায়। অপরাধীদের বিরুদ্ধে যদি এই প্রতিরোধ আন্দোলন নিয়মিত জারি রাখা যায়, তবে সমাজে খুব দ্রুতই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং আগামী প্রজন্ম একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
