
নদীভাঙন বাড়াচ্ছে খননযন্ত্রের অবাধ বালি উত্তোলন, টেকসই বাঁধে বরাদ্দ অর্থও অকার্যকর
সিরাজুল ইসলাম : সাতক্ষীরা ও খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ বালি উত্তোলনের ফলে সুন্দরবন ও নদীপাড়ের বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী তীরের গাছপালা ধ্বংস হচ্ছে, নদীভাঙন বাড়ছে, আর বাঁধের সংস্কারকাজের অর্থ বিনষ্ট হচ্ছে।
পশ্চিম সুন্দরবনের কয়রা ও শ্যামনগর উপজেলার কপোতাক্ষ, শাকবাড়িয়া, খোলপেটুয়া নদীতে বালি উত্তোলনের ফলে নদীভাঙনের পরিধি বেড়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, কয়েকটি শক্তিশালী চক্র রাতের বেলায় খননযন্ত্র ব্যবহার করে অবাধে বালি উত্তোলন করছে। পানিসম্পদ উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ সংস্কারের ঠিকাদাররাও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
পাউবো খুলনা-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহির মাজাহার জানান, ‘অপরিকল্পিত বালি উত্তোলনের কারণে নদীতে বড় ধরনের গর্ত তৈরি হচ্ছে, যা বেড়িবাঁধ ধসে ভাঙন সৃষ্টি করছে। বিষয়টি উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের ৬৬ শতাংশ বাংলাদেশে অবস্থিত। এটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল। জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে বালি উত্তোলনের অবাধ ব্যবহার বনাঞ্চলের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি সৃষ্টি করছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, “সুন্দরবন প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক দেয়াল। কিন্তু যত্রতত্র বালি উত্তোলন বন ও উপকূলের জন্য বিপজ্জনক।”
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী, সরকারি অনুমতি ছাড়া নদী বা বাঁধ থেকে বালি উত্তোলন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘনকারীদের দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন মাঝেমধ্যে কয়েকজনকে জরিমানা করলেও সিন্ডিকেটের মতো অবৈধ বালি উত্তোলন অব্যাহত আছে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক জানান, “নতুন দায়িত্বে এসে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে বালি উত্তোলন হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভূমি কর্মকর্তাদের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয় নাগরিক সংগঠন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের দাকোপ উপজেলা সমন্বয়ক গোলাম মোস্তফা খান বলেন, “টেকসই বাঁধ না থাকায় প্রতিবারই ভাঙন দেখা দেয়। অবৈধ বালি উত্তোলন সেই ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।”
