বিনা পারিশ্রমিকে সাড়ে ৮ শতাধিক কবর খনন, নিঃস্বার্থ সেবায় অনন্য মোহাম্মদ আলী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

সিরাজুল ইসলাম : বিত্ত বা দারিদ্র্য নয়—মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছাই বড়। সেই বিশ্বাস থেকেই দুই দশকের বেশি সময় ধরে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার এক কৃষক। নিজের সীমিত আয়ের মধ্যেও বিনা পারিশ্রমিকে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৮ শতাধিক কবর খনন করেছেন তিনি।

কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের গণপতিপুর গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী কৃষক মোহাম্মদ আলী পেশায় কৃষক হলেও মানবসেবাকেই জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত এক নিঃস্বার্থ মানুষ হিসেবে।

মোহাম্মদ আলী জানান, প্রায় ২১–২২ বছর বয়স থেকে তিনি কবর খননের কাজ শুরু করেন। এখন পর্যন্ত তিনি ৮৫৮টির বেশি কবর খুঁড়েছেন। এর মধ্যে ৬০৮টি কবরের নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে, আর প্রায় ২৫০টি কবরের তথ্য আগে সংরক্ষণ করা হয়নি। অর্ধশতাধিক কবর তিনি একাই খুঁড়েছেন, আর বাকিগুলোতে স্থানীয়রা তাকে সহযোগিতা করেছেন।

শুধু কবর খননেই থেমে থাকেননি তিনি। গ্রামে অসহায় মানুষের জন্য নিজের উদ্যোগে জমি কিনে কবরস্থান গড়ে তুলেছেন। এমনকি নিজের দান করা জমিতে মসজিদ নির্মাণেও সহায়তা করেছেন। রমজান মাস এলেই তিনি নিজ উদ্যোগে মসজিদ ও আশপাশের বাড়িতে ইফতারের জন্য খিচুড়ি রান্না করেন।

নিজের কাজ সম্পর্কে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মানুষের উপকার আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই এই কাজ করি। যতদিন শরীরে শক্তি থাকবে, ততদিন করে যাব।’

ব্যক্তিগত জীবনে খুবই সাদামাটা তিনি। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার পরিবার। দুজনেরই বিয়ে হয়েছে। ৪ থেকে ৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করে কোনো রকমে সংসার চলে। তবে এই সীমিত আয়ের মধ্যেও তার সেবামূলক কাজ থেমে নেই। খবর পেলেই নিজের মোটরসাইকেলে শাবল-কোদাল নিয়ে ছুটে যান কবর খননে।

স্থানীয় হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘মোহাম্মদ আলীর এই নিঃস্বার্থ কাজ আমাদের সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত। তাকে সম্মান জানাতে এলাকাবাসী একত্রিত হয়েছে। তার যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের কাছেও আবেদন করা হয়েছে।’

স্থানীয়দের মতে, বর্তমান সময়ে যেখানে অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থে ব্যস্ত, সেখানে মোহাম্মদ আলীর মতো মানুষ সমাজে বিরল। নীরবে-নিভৃতে মানুষের শেষ বিদায়ে পাশে দাঁড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন মানবতার এক অনন্য উদাহরণ।