
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি–জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ এ ঘোষণা স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষণা শোনার পর জেলার পাঁচটি উপজেলার হাটবাজার, পাড়া–মহল্লা, বাসস্টেশন থেকে চায়ের দোকান—সব জায়গায় নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনা–উদ্দীপনা বাড়তে দেখা গেছে।
তফসিল ঘোষণার পর রাতে শহর জামায়াতের উদ্যোগে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়। মিছিলটি লক্ষ্মীপুর শহরের চকবাজার এলাকা থেকে শুরু হয়ে বাজার রোড প্রদক্ষিণ করে উত্তর তেমুহনীতে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শেষ হয়।
সমাবেশে নেতারা বলেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁরা আরও বলেন, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—এ অধ্যায় যেন বিতর্কিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে পৌর বিএনপি, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে আরেকটি আনন্দ মিছিল উত্তর তেমুহনী থেকে বের হয়। পরে মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে দক্ষিণ তেমুহনী এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য মানুষ গুম–খুন, নির্যাতন–হামলা–মামলা সহ্য করেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার তফসিল ঘোষণার পর তারা বিশ্বাস করছেন—নির্বাচন হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এতদিন মানুষ উৎকণ্ঠায় ছিল—ভোট হবে কি হবে না। এখন নির্ধারিত তারিখ ঘোষণার পর সবাই ভোটের অপেক্ষায়।’
লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল আমরা স্বাগত জানাই। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।’
লক্ষ্মীপুর জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান খান ভুট্টু বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও সরকার যদি ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পারে, তাহলে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হতে কোনো বাধা থাকবে না।’
