সাতক্ষীরায় ৯ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া: যাতায়াতে নতুন দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ দিন আগে

সাতক্ষীরা | নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজীকরণ ও আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিনির্মাণে সাতক্ষীরা জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সংস্থাটির তথ্যমতে, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ২৯৪ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, জেলাজুড়ে নেটওয়ার্কের প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার সড়ক ইতিমধ্যে বিটুমিনাস, আরসিসি, ইউনিব্লক ও হেরিংবোন পদ্ধতিতে পাকাকরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার মাটির সড়ক পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও পরিকল্পনা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় জেলায় ২১৩ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ এবং ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া পরিচালন বাজেটের আওতায় ৭৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও মেরামত করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ২৭০ কিলোমিটার মাটির সড়ক পাকাকরণ এবং ১৫০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে গত অর্থবছরে ৪৩০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৪৪৬ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সড়কপথের বাইরেও কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৫ দশমিক ৪ কিলোমিটার খাল খনন, ২১টি ঘাটলা নির্মাণ এবং সেচব্যবস্থা ও স্লুইস গেটসহ বিভিন্ন পানি সম্পদ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৪টি আধুনিক বাজার ও ৪২টি ধর্মীয় অবকাঠামোর উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

অভিযোগ ও এলজিইডির ভাষ্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলারোয়া ও সদর উপজেলার কিছু সড়কের নির্মাণকাজ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম তারিকুল হাসান খান বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী দ্বারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করানো হয়েছে। সেখানে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগকারীরা পরবর্তীতে নিজেদের ভুল স্বীকার করেছেন।

আশাশুনি উপজেলার বড়দল-কাপ্সানডা বাজার সড়কের বিল সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়নি। কাজ চলমান থাকা অবস্থায় কেবল চলতি বিল দেওয়া হয়েছিল। কাজ শেষ হওয়ার পর গত ২৫ জুন চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের মতো চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও উন্নয়নকাজ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্প তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন এবং জনবলসংকট দূর করা গেলে উন্নয়নকাজ আরও দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।”

স্থানীয় কৃষকদের মতে, নতুন সড়ক ও সেতু নির্মাণের ফলে এখন তারা কম খরচে ও দ্রুত সময়ের মধ্যে পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে পারছেন, যা তাদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।