
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর–৪ (রামগতি–কমলনগর) আসনে চলছে নানা মাত্রার রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার মোট আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায়।
এই আসনে প্রার্থীরা হলেন—বিএনপি থেকে সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত (হাতপাখা) প্রার্থী ও কমলনগর উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তানিয়া রব, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এ আর হাফিজ উল্লাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির বিথীকা বিনতে হোসাইন, কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল হুদা চৌধুরী, মঞ্জুর মোর্শেদ জুয়েল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত অ্যাডভোকেট মিলন মণ্ডল, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আব্দুল মতিন এবং গণঅধিকার পরিষদের রিদওয়ান উল্যা খাঁন।
এদিকে পুরো আসনজুড়েই বইছে নির্বাচনের আমেজ। দিনভর চলছে পোস্টার, লিফলেট বিতরণ ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় প্রার্থীরা। তবে বিএনপির ভেতরে একাধিক প্রার্থী থাকায় দলটিতে কিছুটা বিভক্তি দৃশ্যমান। তা সত্ত্বেও ইসলামপন্থী দলগুলোর একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় ভোটের অঙ্কে বিএনপি তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩৪ জন। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১২১টি। ভোটারদের সামান্য বিভাজনই নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘাঁটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি
রামগতি ও কমলনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর–৪ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই আসন থেকে এর আগে এমপি, মন্ত্রী ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব। মন্ত্রী হয়েছেন বিকল্পধারার মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান এবং এমপি নির্বাচিত হয়েছেন সিএসপি আব্দুর রব চৌধুরী ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান।
২০০১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা দুইবার ধানের শীষ প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হন আশরাফ উদ্দিন নিজান। এরপর তিনটি নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধারে এক বছর ধরে তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন নিজান। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তুলছেন তিনি।
এ বিষয়ে আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, “রামগতি–কমলনগর আমার জন্মভূমি। এখানকার মানুষ আমাকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। এবারও বিশ্বাস করি, জনগণ বিএনপির পক্ষেই রায় দেবেন। নদীভাঙন রোধ এবং রামগতি–ভুলুয়া নদী খননই এই এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা। নির্বাচিত হলে এ দুটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।”
ইসলামী আন্দোলন–জামায়াত সমীকরণ
এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামী—উভয় দলেরই উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক রয়েছে। অতীতে ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ভালো ফল করেছে ইসলামী আন্দোলন। চরকাদিরা ইউনিয়নে টানা দুইবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে পরে উপজেলা চেয়ারম্যান হন দলটির প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর মধ্যে শেষ পর্যন্ত ঐক্য না হলে তার সুফল যাবে বিএনপির ঘরে। এ বিষয়ে মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, “আমাদের দল শুরু থেকেই ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার কথা বলে আসছে। আলোচনা এখনো চলমান। আমরা আশাবাদী, শেষ পর্যন্ত একটি সমাধানে পৌঁছানো যাবে।”
জেএসডির ভোটব্যাংক
এই আসনটি জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের নিজ এলাকা হওয়ায় দলটির একটি শক্ত ভোটব্যাংক রয়েছে। জেএসডির প্রার্থী তানিয়া রব তারা প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, জেএসডির ভোট এককভাবে জয়ের জন্য যথেষ্ট না হলেও কোন প্রার্থীর ঘরে যাবে, তার ওপর নির্ভর করছে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ।
