
নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৭৩২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও এর মধ্যে ২৫৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। সহকারী শিক্ষকের পদও বহু বিদ্যালয়ে খালি থাকায় পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থী এসব বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট ও প্রশাসনিক পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শুধু বিদ্যালয় পর্যায়েই নয়, তদারকির দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) পদেও বড় সংকট রয়েছে। জেলায় ৩৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪ জন কর্মকর্তা। এতে গড়ে একজন কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছে ৫০টিরও বেশি বিদ্যালয়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত সংখ্যক বিদ্যালয় নিয়মিত পরিদর্শন করা সম্ভব না হওয়ায় মনিটরিং কার্যক্রম প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে ৩ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। অবসর, পদোন্নতি জটিলতা ও নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।
সদর উপজেলায় ১০৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টিতে সহকারী শিক্ষক এবং ১০৯টিতে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। রামগঞ্জ, রায়পুর, কমলনগর ও রামগতিতেও একই চিত্র।
শূন্য পদে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সামলাতে গিয়ে তারা চাপে রয়েছেন।
রায়পুর উপজেলার সোনাপুর জীবনেন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উত্তম কুমার শীল বলেন, “১৪ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। প্রশাসনিক কাজ ও ক্লাস একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
শিক্ষক সমিতির নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন পদ শূন্য থাকায় পাঠদানের সময় কমে যাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রামগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউছুফ বলেন, “সহকারী শিক্ষক দিয়ে সব দায়িত্ব চালানো হচ্ছে, এতে নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে।”
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, প্রধান শিক্ষক পদে ৬৫ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ ও ৩৫ শতাংশ পদোন্নতির বিধান থাকলেও মামলা জটিলতায় দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে।
রায়পুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, “আইনি জটিলতার কারণে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সমাধান হলে সমস্যা কমবে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজ্জাদ বলেন, “আমরা নিয়মিত মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানাচ্ছি। দ্রুত পদোন্নতি ও নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হলে সংকট নিরসন সম্ভব হবে।”
