লক্ষ্মীপুরে লঞ্চঘাটে প্যানেল চেয়ারম্যান নয়ন বেগমসহ পাঁচ নারীকে পিটুনির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

ইজারাদার রাজু ও তার লোকজনকে অভিযুক্ত করছে ভুক্তভোগীরা

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরে সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চঘাটে প্যানেল চেয়ারম্যান নয়ন বেগমসহ পাঁচ নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ঘাটের ইজারাদার আমির আহম্মেদ রাজু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। 

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা ১টার দিকে ২০ নম্বর চর রমনী মোহন ইউনিয়নের এ ঘাটেই ঘটনাটি ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন—ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নয়ন বেগমসহ কয়েকজন স্থানীয় নারী। ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীদের হাত থেকে নারীদের রক্ষা করতে না পারার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো আটক করা হয়নি।

ঘটনাস্থল ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালের দিকে ভোলা থেকে আসা একটি লঞ্চ দোয়েল ঘাটে ভিড়লে দড়ি বাঁধাকে কেন্দ্র করে সোহাগ ও কাজল নামে দুই লঞ্চকর্মীর মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়।

সোহাগ অভিযোগ করেন, তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান নয়ন বেগমের ভাগ্নে পরিচয় দেওয়ার পর কাজল তাকে মারধর করে।

ঘটনার খবর পেয়ে নয়ন বেগম লঞ্চঘাটে গেলে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা বসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। এর মধ্যেই ইজারাদার রাজুর কর্মচারী মুকুলের সঙ্গে এক নারীর বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মুকুল তাকে বাইরে টেনে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় নয়ন বেগম ও তার সঙ্গে থাকা নারীরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

হামলার শিকার এক নারী বলেন, ‘মুকুল বৈঠকে বসার পর থেকেই নয়ন বেগমকে গালমন্দ করছিল। পরে তাকে চলে যেতে বললে সে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়।’

প্যানেল চেয়ারম্যান নয়ন বেগম বলেন, ‘ঘাটে প্রতিনিয়ত যাত্রীদের হয়রানি ও মারধর করে রাজুর লোকজন। আজ সোহাগকে মারধরের খবর পেয়ে আমি গেলে রাজুর নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা হয়।’

ইজারাদার আমির আহম্মেদ রাজু অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি তখন ঘাটে ছিলাম না। উল্টো নয়ন বেগম ঘাটে এসে আমার এক স্টাফকে মারধর করেছে ও হট্টগোল করেছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।’

অন্যদিকে অভিযুক্ত কাজল প্রথম ঘটনার কথা স্বীকার করলেও ইজারাদারের কর্মচারী আহম্মেদ শাহ মুকুল সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল হক বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’