লক্ষ্মীপুরে জ্বালানি তেল বিতরণে ফিরেছে শৃঙ্খলা, কমেছে জনভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরে জ্বালানি তেল বিতরণকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সৃষ্টি হওয়া অস্থিরতা ও জনভোগান্তি প্রশাসনের কড়াকড়ি নজরদারি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফিলিং স্টেশন মালিক ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় এখন সুশৃঙ্খলভাবে চলছে তেল বিতরণ কার্যক্রম।

রমজান মাসজুড়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা এলাকায় যানজট ও জনদুর্ভোগ নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান। পবিত্র রমজানের শুরু থেকে চাঁদ রাত পর্যন্ত শহর ও আশপাশের এলাকার যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তাঁর উদ্যোগ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রভাব দেশেও পড়লেও লক্ষ্মীপুরে প্রশাসনের তদারকিতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে সুষমভাবে জ্বালানি বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলার মোজাম্মেল ফিলিং স্টেশন, ধরিত্রী ফিলিং স্টেশন ও ফিরোজ ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্প চাঁদপুর ডিপো থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সংগ্রহ করে থাকে। সাম্প্রতিক সংকটের সময় বাড়তি চাপ সামাল দিতে প্রশাসনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধরিত্রী ফিলিং স্টেশনে বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি থাকলেও প্রশাসনের উপস্থিতিতে দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরে আসে। মোটরসাইকেল ও ভারী যানবাহনের জন্য পৃথক লাইন তৈরি করে সুশৃঙ্খলভাবে তেল বিতরণ নিশ্চিত করা হয়।

এ বিষয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। প্রশাসনের সক্রিয় উপস্থিতি ছাড়া এ ধরনের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ত।

তিনি আরও জানান, হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে যানবাহনগুলোকে নিয়ন্ত্রিতভাবে লাইনে দাঁড় করিয়ে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির কারণে তারা নির্বিঘ্নে তেল বিক্রি করতে পারছেন এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হচ্ছে না।

তেল নিতে আসা সাধারণ মানুষও প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, আগে যেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, এখন সেখানে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।

সার্বিকভাবে প্রশাসনের তৎপরতা ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগে লক্ষ্মীপুরে জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে এবং জনভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।