রায়পুরায় মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ‘ভার্বাল অটোপসি’ পাইলট প্রকল্পের কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক : নরসিংদীর রায়পুরায় সিআরভিএস (সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস) এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ উপাত্ত শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে একদিনের এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ‘ভার্বাল অটোপসি পাইলট প্রকল্প’-এর আওতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

আজ রোববার সকাল ১০টায় রায়পুরা উপজেলা মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এবং রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।

ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল।

“একটি শিশু জন্মের পর যেমন তার জন্ম নিবন্ধন করা অত্যাবশ্যকীয়, ঠিক তেমনিভাবে যেকোনো মানুষের মৃত্যুর পর তার মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটন এবং মৃত্যু নিবন্ধন করাও বাধ্যতামূলক।”

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা দেশের মৃত্যুর কারণ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। এমআইএস-এর উপাত্তের বরাতে জানানো হয়, দেশে শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ নিউমোনিয়া। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শিশুর মৃত্যু হচ্ছে এই রোগে। অন্যদিকে, ৪০ বছর ঊর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মৃত্যুর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ঘটছে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতার কারণে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা গেলে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হয়। তাই কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারীকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করা প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন এমআইএস-এর পরিচালক ডা. বেলায়েত হোসেন, ডা. তৌফিক হাসান, নরসিংদী জেলা হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. বুলবুল কবীর, নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ হোসেন এবং রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাসুদ রানা।

পুরো কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. জান্নাতুল নাঈম। কর্মশালায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।