বাগেরহাটে আওয়ামীলীগ নেতার ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ বছর আগে

  • সোহেল রানা বাবু, বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ নাসির হাওলাদারের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের দিগরাজ নামক স্থানে এই মানববন্ধন হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীরা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা নাসীর একজন মাদক ব্যবসায়ী, খুনি ,ভূমিদস্যু , ও চোরাচালানকারী। তার অপকর্মে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি খুনি নাসীরের ফাঁসি চাই।

নাসিরের অত্যাচারে ক্ষতিগ্রস্ত মরজিনা বেগম (৫৫) বলেন, আমার খুব আদরের ছোট বোন আছমা আরোজ কে ২০০১ সালে পারিবারিকভাবে ইসলামী শরীয়ত মতে নাসীরের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলাম। তার বিয়ের ১৫ বছর অতিবাহিত হয়। বিয়ের পর থেকে প্রায়ই তার স্বামী নাসীর হাওলাদার  আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে তাকে নির্যাতন করতো।

 আমার বোন তার একমাত্র পুত্র ও তিনটা মেয়ে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে স্বামীর সংসারে থেকেছে। এক পর্যায়ে প্রতিবাদ করায় ২০১৮ সালে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে আমার বোনকে হত্যা করে নাসির।হত্যার কারণ জানতে থানা থেকে শুরু করে হাসপাতাল সহ বিভিন্ন দপ্তর দপ্তরে ঘুরে বেড়িয়েছি এখনো পর্যন্ত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাইনি। যখন এই খুনের তদন্ত বের করতে যাইতাম তখন আমাকে আমার পরিবার কে খুন ও গুমের হুমকি দেওয়া হতো। এখন পর্যন্ত আমার বোনের হত্যার ন্যায়বিচার পাইনি।আমরা হত্যাকারী নাসিরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি।

স্থানীয় বাসিন্দা শেখ জিহাদুল ইসলাম মহিদুল বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা নাসীর হাওলাদার এর তান্ডবে ১৬ টা বছর কেউ শান্তিতে বসবাস করতে পারেনি।তার নামে রয়েছে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ যা এখনও পর্যন্ত কোনো কোনো সমাধান হয়নি।সে আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ হওয়ার কারণে তার দ্বারা সংগঠিত চার পাঁচটা খুনের তদন্ত হয়নি। খোকা তালুকদার হত্যা, ছুটে হত্যা, আছমা হত্যা কান্ড থেকে শুরু করে এখন ও পর্যন্ত কোনো  হত্যার ময়নাতদন্ত হয়নি। এলাকার মানুষ তার কাছে জিম্মী। এখন ও তার ভয়ে মানুষ বের হতে পারে না। সরকারের কাছে নাসিরের ফাঁসি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় হেমায়েত হোসেন বলেন, নাসীর ক্ষমতার জোর দেখিয়ে মন্দিরে জায়গা দখল করে নিয়েছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া মোহাম্মদ আলী বলেন, ৪ আগস্ট খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে  নাসীর নিজে অস্ত্র নিয়ে গুলি করেছিল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করেছে। আমরা তার ফাঁসি চাই। 

গত ১০ তারিখে অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে  নাসীর হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।