ভিক্ষুকের জমি রেজিস্ট্রি না দেয়ায় লাশ দাফনে বাঁধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ years ago

  • নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুর জেলায় রামগতি উপজেলায় আবু তাহের (৭০) নামে এক স্থানীয় জমি বিক্রেতার লাশ দাফনে বাঁধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। 

গত শুক্রবার দুপুরে রামগতি উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের পূর্ব চরসীতা গ্রামে এম ঘটনা ঘটে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান আবু তাহের । পরে পরিবারের সদস্যরা তার লাশ দাফন করতে গেলে এলাকার স্থানীয় সাকু মিয়ার স্ত্রী ভিক্ষুক মরিয়ম (৫৫) ও তার ছেলে জলিল মিয়া আবু তাহেরের জানাজায় উপস্থিত হন। উপস্থিত লোকজনের সামনে জমি রেজিস্ট্রি দিলেই তবে তাহেরের লাশ দাফন হবে এমন হুমকি দেন মা-ছেলে।

স্থানীয় সূত্র, ওই এলাকার আবু তাহের ও ছিদ্দিক উল্লাহ নামের দুই সহোদর ভাইয়ের কাছ থেকে ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম দীর্ঘ ২৬ বছর আগে (১৯৯৮) চরসীতা মৌজার ২৯৭ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ২০ শতক জমি ক্রয় করেন। দুই ভাই আবু তাহের ও ছিদ্দিক উল্লাহ জমিটি রেজিস্ট্রি দিতে গড়িমসি করার কারণে রেজিস্ট্রির আগেই মরিয়ম ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে অদ্যবদি পর্যন্ত বসবাস করে আসছেন। 

২০১৬ সালে ছিদ্দিক উল্লাহ মারা যান। ওই সময়ও ভুক্তভোগী মরিয়ম ছিদ্দিক উল্লার লাশ দাফনে বাঁধা দিলে আবু তাহের জমিটি রেজিস্ট্র দিবে মর্মে ওয়াদা দিলে স্থানীয়রা ছিদ্দিক উল্লার লাশ দাফন করেন।

ভুক্তভোগী ভিক্ষুক মরিয়ম বেগম জানান, দীর্ঘ ২৬ বছর আগে ছিদ্দিক উল্লাহ ও আবু তাহেরের কাছ থেকে ওই জমিটি কিনে বাড়ি তৈরি করেছেন তিনি । জমি বিক্রি করার টাকা নেওয়ার পর বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে আজও জমিটির রেজিষ্ট্রি করে দেয়নি আবু তাহের। এরই মধ্যে ছিদ্দিক উল্লাহ মারা যাওয়ার পর তাহের রেজিস্ট্রি দিবে মর্মে সমাজের মানুষের কাছে ওয়াদা করেছিল।

তিনি আরও বলেন, স্বামী সাকু মিয়া গত ১৫ বছর ধরে শরীরে পক্ষপাতগ্রস্ত সমস্যায় আক্রান্ত। এক ছেলে থাকলেও না থাকার মত। যে কারণে ভিক্ষা করে স্বামীকে নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে তার। 

তিনি বলেন, আবু তাহের এলাকার প্রভাবশালী হওয়ার কারণে জমিটির রেজিস্ট্রি চাইতে গিয়ে অনেক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাকে। আমি আমার জমির রেজিস্ট্রি চাই।

স্থানীয় ইসমাইল মাস্টার জানান, ছিদ্দিক উল্লাহ ও আবু তাহের মরিয়মের কাছে জমি বিক্রি করছে সত্য। 

মৃত আবু তাহেরের ছেলে মো.হাসান জানান, আমার বাবা ও চাচা মরিয়মের কাছে জমিটি বিক্রি করেছে সত্য, তবে কেন কি কারণে তারা জমি রেজিস্ট্রি দেয়নি তা আমার বুঝে আসেনা। 

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কবির হোসেন জানান, এ বিষয়ে কেউ আমাকে জানায়নি। তবে এমন ধরনের কাজ করা মোটেই ঠিক হয়নি।