উপকূলের টাইগার চিংড়ি ইউরোপ-আমেরিকায়: দেশের অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

সাতক্ষীরা থেকে সিরাজুল ইসলাম: বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, চট্টগ্রামসহ একাধিক অঞ্চলে জেলেদের জালে ধরা পড়া রঙিন “টাইগার চিংড়ি” এখন দেশের সীমান্ত পেরিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় যাচ্ছে। এই চিংড়ির রফতানি বছরে শত শত কোটি টাকার আয় নিয়ে আসছে, যা উপকূলীয় মানুষের জীবিকা ও দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।

নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রধান মৌসুমে পটুয়াখালী ও আশেপাশের উপকূলীয় এলাকায় টাইগার চিংড়ি আহরণে ধুম পড়ে। সমুদ্র তীরবর্তী দুর্গম দ্বীপ চরমোন্তাজে দেখা যায়, জেলেরা মাছ ধরার পরে চিংড়ি বাছাই, মাথা কেটে প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ করছেন। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে অর্ধলাখেরও বেশি মানুষের।

উপকূলীয় জেলে রেজাউল করিম জানান, প্রতি বছর তিনি সুন্দরবন ও খলুয়া নদীতে জাল দিয়ে টাইগার চিংড়ি আহরণ করে দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা আয় করেন, খরচ প্রায় ৬০–৭০ হাজার টাকা। গাবুরার মমতাজ উদ্দিনও প্রতিবার ৩–৩.৫ লক্ষ টাকার উপার্জন করেন। তারা জানাচ্ছেন, এই চিংড়ি আহরণ তাদেরকে মোটামুটি স্বাবলম্বী করেছে।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, “চিংড়ির মাথা দিয়ে অন্যান্য মাছ ও পশুর খাবার তৈরি হয়। জেলেদের জন্য পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে যাতে রফতানি প্রসারিত হয়।”

সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগের বনকর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান জানান, “বেঞ্চি জাল বা টাইগার চিংড়ি আহরণে আলাদা অনুমতি নেই। তবে শুটকির মৌসুমে জেলেরা সুন্দরবনের দুবলার চরসহ বিভিন্ন স্থানে চিংড়ি আহরণ করে পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন, যা বিদেশে রপ্তানি হয়।”

উপকূলীয় জেলেদের জন্য এই রঙিন চিংড়ি কেবল জীবিকার উৎস নয়, দেশের অর্থনীতিতে সম্ভাবনার নতুন দিশাও দেখাচ্ছে।