আর্থিক সংকটে চিকিৎসা বঞ্চিত আনারুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

সুজন শেখ, স্টাফ রিপোর্টার : দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার চন্ডীপুর গ্রামের আনারুল ইসলাম (৩৯)। গত বছরের ৫ আগস্ট গাজীপুরের চান্দুরায় স্বৈরাচারবিরোধী এক আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত হন তিনি। আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে শরীরে ঢুকে যায় একে একে ১০টি রাবার বুলেট। এক বছর পার হলেও আজও গুলিগুলো রয়ে গেছে শরীরেই। অর্থাভাবে করাতে পারছেন না উন্নত চিকিৎসা।

আনারুল পেশায় গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন। গাজীপুরের চান্দুরা এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান নিয়ে কোনো রকমে চলছিল তাঁর অভাবী সংসার।

আনারুল জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট সকালে তিনি চান্দুরা চৌরাস্তা এলাকায় একটি মিছিলে যোগ দেন। আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি ছুড়লে গুলিবিদ্ধ হন তিনি।

প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও কোনো কাগজপত্র পাননি। পরে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি বেসরকারি স্থানে চিকিৎসা করান। তবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেননি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামসুদ্দোহা মুকুল প্রথম আলোকে বলেন, আনারুল যখন আমাদের হাসপাতালে আসে, এক্স-রেতে দেখা যায় তাঁর মাথা ও পিঠে ১০টি রাবার বুলেট রয়েছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিই।

আনারুল বলেন, আমার এখন হাত-পা কাজ করে না। কোনো কাজ করতে পারি না। আমার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে মানবেতর জীবন পার করছি। কেউ পাশে দাঁড়ায় না। কেউ কোনো সহায়তা করে না। জানি না, বেঁচে থাকব কি না।

আনারুলের ভাই এরশাদ আলী বলেন, “আমার ভাই এখন বাড়িতেই পড়ে আছে। তাঁর চিকিৎসার কোনো সামর্থ্য নেই। সরকার বা কোনো সহায়তা সংস্থা পাশে দাঁড়ালে হয়তো সে আবার একটু সুস্থভাবে বাঁচতে পারত।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন প্রতিনিধি রহিদুল ইসলাম রাফি বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন, তাঁদের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আনারুলদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার বলেন, আনারুলের বিষয়ে জেনে আমরা চেষ্টা করছি সহায়তা দিতে। তাঁর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।