মা ইলিশ রক্ষায় মেঘনায় ২৪ দিনের নিষেধাজ্ঞা, বিপাকে হাজারো জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : মা ইলিশ সংরক্ষণে আগামী ৩ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৫ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত দেশের নদ-নদী ও সমুদ্র উপকূলে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এই ২৪ দিন ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও বিক্রিও নিষিদ্ধ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদী ও উপকূলীয় অঞ্চল। 

এ খবরে হতাশা নেমে এসেছে স্থানীয় জেলে, আড়তদার ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

ভরা মৌসুমেও মেঘনা নদীতে আশানুরূপ ইলিশ মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন রায়পুর ও সদর উপজেলার জেলেরা। প্রতিদিন হাজারো জেলে নদীতে গেলেও অধিকাংশ সময় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। নৌকায় যে অল্প কিছু ইলিশ ধরা পড়ে, তা দিয়ে শ্রমিকের মজুরি ও জ্বালানি খরচই উঠছে না বলে জানান অনেক জেলে।

রায়পুরের নাইয়াপাড়া গ্রামের জেলে জসিম উদ্দিন বলেন, “ইলিশ তো আগের মতো নাই। জাল ফেলে আবার খালি উঠাতে হয়। নিষেধাজ্ঞার খবর শুনে আরও মন খারাপ হয়ে গেলো।”

নিষেধাজ্ঞার কারণে শুধু জেলেরা নয়, বিপাকে পড়েছেন মৎস্য আড়তদার, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরাও। অনেকে ঋণ করে জাল ও নৌকা কিনেছেন, এখন সেই ঋণ পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন।

চরবংশী ইউপির সচিব আবু ইউসুফ বলেন, “মেঘনার অনেক এলাকায় অবৈধ কারেন্ট ও মশারি জাল ব্যবহারের কারণে ইলিশ ঝাঁক বাধতে পারে না। ফলে মাছও কম ধরা পড়ছে।”

খাসেরহাটের মৎস্য ব্যবসায়ী আবদুল মাঝি বলেন, “পরিবার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। জেলেরা মাছ পাচ্ছে না, আমরাও ব্যবসা করতে পারছি না। অনেকেই ভাবছেন পেশা পরিবর্তনের কথা।”

গত বছর নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছিল ১২ অক্টোবর থেকে। এবার তা এগিয়ে এনে ৩ অক্টোবর করা হয়েছে, যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

চরবংশীর চান্দারখালের মৎস্য আড়তের মালিক সোলায়মান বলেন, “যখন একটু ইলিশ পাওয়া শুরু হয়, তখনই নিষেধাজ্ঞা আসে। আমরা চাই তারিখটা পুনর্বিবেচনা করা হোক। ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে নিষেধাজ্ঞা দিলে ভালো হয়। না হলে ওরা মাছ ধরে নিয়ে যায়, আমরা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হই।”

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “ডুবোচর, প্রতিকূল আবহাওয়া, অতিরিক্ত শিকার এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে ইলিশের প্রজননে প্রভাব পড়ছে। মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে বড় ইলিশের প্রাচুর্য দেখা যাবে, যা জেলেদের জন্য আশীর্বাদ হবে।”