সাতক্ষীরাবাসীকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে হবে: পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১৯ ঘন্টা আগে

সিরাজুল ইসলাম : সাতক্ষীরা জেলার ২২ লাখ মানুষকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করাকে বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোহাম্মদ আশরাফুল আলম। তিনি বলেছেন, যে কোনো মূল্যে পুলিশকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স ড্রিলসেডে আয়োজিত জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, “পুলিশের দাপ্তরিক কাজ পরে করা যাবে, প্রয়োজনে অবসর সময়ে তা সম্পন্ন করতে হবে; কিন্তু জনগণের সেবা সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সাধারণ মানুষ যেন পুলিশের কাছে হয়রানির শিকার না হয়, সেটি বরদাস্ত করা হবে না।” সাতক্ষীরার সব থানার অফিসার ইনচার্জসহ (ওসি) সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

কল্যাণ সভার অন্যান্য সিদ্ধান্ত ও আলোচনা

কার্যবিবরণী পর্যালোচনা: সভার শুরুতে সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) খালিদ মো. আরাফাত বিগত মাসের কার্যবিবরণীর বাস্তবায়ন পর্যালোচনা এবং চলতি মাসের বিভিন্ন আবেদন উপস্থাপন করেন।

সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান: পুলিশ সুপার সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং অধিকাংশ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান ও বাকিগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা: সকল স্তরের পুলিশ সদস্যকে সার্ভিস রুলস মেনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া মেসে উন্নত খাবার পরিবেশন, ড্রেসরুলস মেনে চলা, ছুটি ও টিএ বিলের ন্যায্যতা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে উত্তম ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়।

সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান

সভা শেষে দীর্ঘ কর্মজীবনের সফল সমাপ্তি উপলক্ষে অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল মো. আলী হায়দার শেখকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। এছাড়া, নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের হাতে নগদ অর্থ ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন পুলিশ সুপার।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার (দেবহাটা সার্কেল) মো. বায়েজীদ ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) শাওন রেজা, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মো. ইমরান খান, পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আবু হোসেনসহ সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিআইও-১, টিআই (অ্যাডমিন) এবং জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যবৃন্দ।