ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানি কমলেও রপ্তানি ও রাজস্বে ঊর্ধ্বগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সাম্প্রতিক অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও রপ্তানি ও সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ভোমরা ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩–২৪ ও ২০২৪–২৫ অর্থবছরের তুলনামূলক বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ভোমরা কাস্টমস সূত্র জানায়, বর্তমানে এই স্থলবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ২৩ ধরনের দেশীয় পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সুতা ও জুট ইয়ার্ন, ওয়েস্ট ও ক্লিনিং ক্লথ, ফার্নিচার, মশারির নেট, প্লাস্টিক বাথরুম ফিটিংস, তাঁতের শাড়ি, লুঙ্গি, ট্রাভেল ব্যাগ, তৈরি পোশাক, মাছ ধরার জাল, তিলের তেল, জুস, চিপস ও লিচু।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ৫৯ হাজার ৬৯৩টি পণ্যবাহী গাড়িতে প্রায় ৮ হাজার ৭৫ কোটি টাকা মূল্যের ২০ লাখ ৮২ হাজার ৭২২ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৯৭৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

এর আগের অর্থবছর ২০২৩–২৪ সালে ৬৩ হাজার ৯০২টি গাড়িতে ৬ হাজার ৪৭৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা মূল্যের ২৩ লাখ ৫৫ হাজার ৬২ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছিল। সে সময় রাজস্ব আদায় হয় ৯০৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ আমদানির পরিমাণ কমলেও রাজস্ব আয় বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

রপ্তানি খাতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ২২ হাজার ৯৩৭টি গাড়িতে ৩ হাজার ৪০৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা মূল্যের ২ লাখ ৮৬ হাজার ১৩০ মেট্রিক টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরে ২৪ হাজার ৫৮০টি গাড়িতে ৩ হাজার ৯০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা মূল্যের ২ লাখ ৭৪ হাজার ১১০ মেট্রিক টন পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। এ হিসাবে রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ২৩ শতাংশ।

রাজস্ব আয়ের দিক থেকেও অগ্রগতি ধরে রেখেছে ভোমরা শুল্ক স্টেশন। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে এখান থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল ৮৫৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪৬ কোটি ২৩ লাখ টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৯২ কোটি ২৪ লাখ টাকা বেশি।

ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা বলেন, কলকাতার সঙ্গে ভোমরা স্থলবন্দরের দূরত্ব কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এই বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন। রপ্তানি খাতে সরকারি সুযোগ–সুবিধাও ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

ভোমরা স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (প্রশাসন) মনিরুজ্জামান খান বলেন, ডলার সংকট ও সাম্প্রতিক আর্থিক পরিস্থিতির কারণে চলতি অর্থবছরে আমদানিতে কিছুটা চাপ পড়েছে। তবে অর্থবছরের বাকি সময়ে এই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে খাদ্যপণ্য, নির্মাণসামগ্রী, পোশাক ও কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, মাছ ও শিল্পজাত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।