
মোঃ স্বাধীন, নোয়াখালী : নোয়াখালীর সদর উপজেলার নেওয়াজপুর ইউনিয়নের কাশেম বাজার মসজিদে গত ১৮-১৯ অক্টোবর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় এক দফা সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলা ঘটে। ঘটনায় দু’পক্ষের সাধারণ ও কর্মী পর্যায়ের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে; নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
ইসলামী ছাত্রশিবির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ১৮ অক্টোবর কাশেম বাজার মসজিদে ‘দারসুল কোরআন’ কর্মসূচি পরিচালনা করতে গেলে মসজিদের ভেতরে মিটিংটি বাধাগ্রস্ত হয়—এমন অভিযোগ করেন শিবিরের সদস্যরা। তাদের কথায়, মসজিদের ভেতরে কোরআনের ন্যায়নীতির ব্যাখ্যা করতে গেলে কিছু স্থানীয় যুবদলের কর্মীরা বাধা দেয় এবং পরে বিবাদ বর্ধিত হয়।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে মসজিদের সেক্রেটারি সেলিমকে ওই দিন অভিযোগ জানালে স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ফারুকের সংস্পর্শে সেলিমকে মারধর করা হয়—এমন দাবি শিবিরসূত্রে জানা গেছে। পরের দিন (১৯ অক্টোবর) পুনরায় ‘দারসুল কোরআন’ কর্মসূচি চালানোর সময় বিএনপি পরিচয়ে থাকা কিছু লোক মসজিদে হামলা করে বলে শিবিরের অভিযোগ; এতে শিবিরের ও নানান উপাধিতে থাকা ব্যক্তিদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
শিবির নেতা ইমরানুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “বিএনপি পরিচয়ে অভিযুক্তরা মসজিদে প্রবেশ করে আমাদের নেতা-কর্মীদের আটক করে রাখে। প্রায় তিন ঘণ্টা পরে জাতীয় এক যৌথবাহিনী (সেনা ও পুলিশ) এসে আমাদের উদ্ধার করে।” তিনি আরও বলেন, “ঘটনার সময় আমাদের ৪৫ জন আহত হয়েছে—অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি। আমাদের মোটরসাইকেল ও মোবাইল নিয়ে নেওয়া হয়েছে; কিছু জায়গায় গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।”
অপরদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, “প্রাথমিক সংঘর্ষটি মসজিদে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বচসার কারণে। পরবর্তীতে কিছু ব্যক্তির আচরণে পরিস্থিতি তীব্র রূপ নেয়। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানাই। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যদি মামলা হয়, তখন আমরা সাড়া দেব।” জেলা বিএনপি দাবি করেন, তাদের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় ১৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তারা সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভরতি আছেন।
স্থানীয় সরকার ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের খবর পেয়ে রাতের পরেই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়; মসজিদ থেকে আটকে থাকা মুসল্লি ও শিবির সদস্যদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। প্রশাসনিক কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি না দিলেও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে।
স্থিতিমত সম্পর্কে মসজিদ কমিটির সদস্যদের বক্তব্যও জানা গেছে; তারা স্থানীয়ভাবে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্লেষকরা অভিযোগ করেছেন যে—মসজিদের ভেতরে রাজনৈতিক বিরোধ ও সহিংসতা ধর্মীয় স্থানের মর্যাদা হানির প্রতীক এবং এ ধরনের ঘটনা মেনে নেয়া যায় না।
স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা ও ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া ঘটনাটি স্থানীয় শান্তি-সম্প্রীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক নেতা-কর্মীরা।
